রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দিয়ে খালাসের অভিযোগ

রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দিয়ে খালাসের অভিযোগ

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর সোনালী ব্যাংক থেকে ৬১ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী র‌্যাবের হাতে স্ত্রী সহ আটক হওয়া আইসিটি অফিসার নাজির আহমেদ জামিন পেয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। কিন্তু সবার চোখে ধোয়া তুলসীর মত কিছু টাকা ফেরত দিয়ে নিরাপদে জীবন যাপন করছেন তিনি। তিনি হলেন মুজুরী ভিত্তিক কাজ করা তানোর পৌর সদর হিন্দুপাড়াগ্রামের সুকুমার। তিনি উপজেলা পরিষদে ব্যাংক থাকা অবস্থায় থেকে করতেন কাজ। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তিনি এখন চাকুরীচূত । ফলে একের পর এক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চরম হতাশ তানোর বাসী। জানা গেছে ২০১৪ সাল থেকে আইসিটি অফিসার নাজির আহমেদ বিভিন্ন একাউন্ট থেকে সুকুমারের সহযোগিতায় প্রায় কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেয়। ওই সময় ব্যাংকের ম্যানেজার হিসবে ছিলেন জহুরুল ইসলাম । তবে মামলায় টাকার পরিমান অনেক কম রয়েছে। কখনো নাজির আহমেদের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে । ওই সময় সুকুমার, ম্যানেজার, আইসিটি অফিসার এবং গ্রেপ্তার হওয়া অফিসার খালিদের সখ্যতা ছিল ব্যাপক । ওই সুযোগে মুজুরী ভিত্তিক হলেও সুকুমার গড়ে তোলেন আলিশান বাড়ী। সন্দেহের দানা বাধে এলাকা বাসির। টাকা লোপাটের সাথে যুক্ত থাকলেও কোন ব্যাবস্থা নেয় নি । চাপে পড়ে তিন লাখ টাকা ফেরত দেন সুকুমার । এঘটনার যের না যেতেই আবারো টাকা লোপাটের ঘটনায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় গ্রাহকরা । এবার টাকা লোপাট করলেন প্রথম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে এখান থেকে সাসপেন্ডে থাকা খালিদ। রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসে ছিলেন তিনি।সেখান থেকেও করেন লোপাট। তিনি মমতা এন্টারপ্রাইজ হিসাব থেকে ৫লাখ, আলম এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ লাখ এবং তানোর এন্টারপ্রাইজ হিসাব থেকে ৩লাখ ৯০ হাজার টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাত করেন । তারা ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারী এবং তার এক মাস পর ফেব্রুয়ারী মাসে এসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন । অন্যদিকে আইসিটি অফিসার নাজির হোসেন তার নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও হিসাবের রেকর্ডপত্র পরিবর্তন করে নাজির আহমেদ নামে হিসাব খুলে কোটি টাকা করেন আত্মসাৎ । ২০১৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন । সুত্র জানায় ওই সময় ম্যানেজার ছিলেন জহুরুল তিনি সহ মুজুরী ভিত্তিক কর্মচারী সুকুমার ওতপ্রত ভাবে জড়িত। বর্তমান ম্যানেজার জিল্লুর রহমান এখানে এসেই ধরে ফেলেন ভয়াবহ এ দুর্নীতি । ধরা ছোয়ার বাহিরে চলে যান ম্যানেজার ও সুকুমার। সুকুমার মুজুরী ভিত্তিক কর্মচারী হবার জন্যে নাকি কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন নি কর্তৃপক্ষ । ভবিষ্যতে যাতে কোন মামলায় পড়তে না হয় এজন্যে সুকুমার প্রায় তিন লাখ টাকা দেন ফেরত। সুকুমারের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এর সাথে আমি জড়িত না । তাহলে টাকা ফেরত দেয়া হল কেন এমন প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে গিয়ে জানান কোন টাকা ফেরত দেইনি। এতো বিশাল বাড়ী কোথায় থেকে নির্মাণ করা হল। তিনি জানান জমানো টাকা থেকে । তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন । সে টাকা দিয়েই করেন বাড়ী নির্মাণ । তার টাকা ফেরত দেবার বিষয়টি ম্যানেজার জিল্লুর রহমান নিশ্চিত করেছিলেন । জড়িত থাকার অপরাধে তাকে চাকুরি থেকে বাদ দেয়া হয় । তিনি এখন বিডো নামের এক এনজিওতে করছেন চাকুরি। আবার অনেকের ধারনা চাকুরি না মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পার্টনারে করছেন এনজিও। তবে বিডো এনজিও পরিচালক আমিনুল জানান সুকুমারকে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়েছে ক্র্যাডিট অফিসার হিসেবে। নামে নিয়োগ না মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আপনার এনজিওর পার্টনার হয়েছেন জানতে চাইলে পরিচালক জানান এটা মিথ্যা। সে মাস্টারোলে আছে। তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বললেন আবার মাস্টারোলে আছে এক ব্যাক্তি কয়টা পদে । জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন অফিসে আসেন সাক্ষাতে কথা বলি । ওই সময় রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসের তদন্ত কারীরা জানিয়েছিলেন সুকুমার মুজুরী ভিক্তিতে কাজ করেন । যার কারনে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা । তবে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ওই সময় বদলি ব্যাংক ম্যানেজার জহুরুলের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছিলেন সুকুমার জড়িত কিনা তদন্তকারীরা ভালো বলতে পারবেন । জড়িত হলে অবশ্যই শাস্তি হবে । আপনিও জড়িত থাকার কারনে নাকি বদলি হয়েছেন জানতে চাওয়া হলে এড়িয়ে যান । ব্যাংক ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন সুকুমার প্রায় তিন লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে । অনুসন্ধানে জানা যায় সুকুমার ব্যাংকে চাকুরি করার সময় রমরমা সুদের ব্যবসা করতেন । শিক্ষকদের বেতন না আসলেও চেক নিয়ে সুদের উপরে দিতেন টাকা । তিনি এখনো এ ব্যবসা করেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে । ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তারা জানান নাজির আহমেদ টাকা আত্মসাতের জন্যে তার স্ত্রী এবং দুধের শিশুকেও যেতে হয় জেলে । তাহলে সুকুমারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না । তিনি যদি টাকা লোপাটের সাথে জড়িত না থাকতেন তাহলে টাকা ফেরত দিলেন কেন । সুকুমার বিলাশ বহুল আলিশান বাড়ী করছেন কোথায় পেল এতো টাকা । তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক । শুধু সুকুমার না ওই সময়ের ব্যাংক ম্যানেজার জহুরুল ইসলামও জড়িত । সে কেন আইনের বাহিরে । তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান একাধিক কর্মকর্তা ।#




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.