এবার রাজশাহীতে দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

এবার রাজশাহীতে দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নাজিম হাসান, রাজশাহী : এবার দুদকের মামলায় ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহীর তানোর সোনালি ব্যাংক শাখার এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার ভেড়িপাড়া মোড় থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম হাসান মো: খালেদুল হক। তিনি সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখায় কর্মরত।

তার বাড়ি পবা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায়। দুদকের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারি উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন জানান, ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখায় দুই কর্মকর্তা হাসান মো: খালেদুল হক ও নাদির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ভেড়িপাড়া মোড় থেকে খালেদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় নাজির হোসেন পালিয়ে যায়।

নাদিরের বাড়ি নগরের বহরমপুর ব্যাংক কলোনী এলাকায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান দুদদ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। তিনি আরও বলেন,তানোর শাখার সিনিয়র অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) খালেদুল হক মমতা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আলম ইন্টাপ্রাইজ ও তানোর ইন্টারপ্রাইজের নামের তিনটি হিসাবের মধ্যে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা জালিয়াতি করে উত্তোলন করে আত্মসাত করে। এর মধ্যে মমতা এন্টারপ্রাইজ হিসাব থেকে ৫ লাখ, মেসার্স আলম ইন্টাপ্রাইজ হিসাব থেকে ১০ লাখ এবং তানোর ইন্টারপ্রাইজের হিসাব থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজাার টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাত করে। তারা ২০১৫ সালের ২০ জানায়ারি এবং একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এ অর্থ উত্তোলন করে আত্মাসত করে।

অপরদিকে, তানোর শাখার আইটি কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) নাজির হোসেন তার নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও হিসাবের রেকর্ডপত্র পরিবর্তন করে নাজমুল হোসেন নামের একটি হিসাব খুলে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের মাধ্যমে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাত করে। ২০১৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাত করে। উল্লেখ্য রাজশাহীতে ২০১৫ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৪০ শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে তাদের বৃত্তি পাইয়ে দেয়। এই নিয়ে অভিভাবকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বিষয়টি তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমান্বিত জেলা কার্যলয়ের উপ-সহকারী পরিচালক উপ-সহকারি পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ নিজে বাদী হয়ে গত সোমবার রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়ায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দুদকের সে মামলার আসামি হচ্ছেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম ও গোদাগাড়ী শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী এবং জেলা শিক্ষা কম্পিউটার অপারেটর সোনিয়া খাতুন। তবে মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.