স্ত্রীর দেয়া তথ্যে মিলল আইনজীবী রথীশের লাশ

স্ত্রীর দেয়া তথ্যে মিলল আইনজীবী রথীশের লাশ

অনলাইন ডেস্ক : জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের (বাবু সোনা) লাশ পাওয়া গেছে। স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে শহরের তাজহাট মোল্লাপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে তার লাশ পাওয়া যায়। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
উদ্ধারের পর রথীশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক লাশটি শনাক্ত করেন।
র‌্যাব জানায়, রথীশের স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার দুই সহকর্মীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে অভিযানে নামে র‌্যাব। আটক করা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের সন্ধান মেলে।
গত শুক্রবার সকালে তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন রথীশ। তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়।
মঙ্গলবার নিখোঁজ আইনজীবীর সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবুপাড়ায় নিজ বাড়ির পেছনে একটি ডোবায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পুলিশ-র‌্যাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ডোবায় তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে একটি রক্তমাখা শার্ট পাওয়া যায়। ওই শার্ট পাওয়ার পর পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম নতুন মাত্রায় ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। রক্তমাখা শার্টের মধ্যে নিখোঁজ আইনজীবীর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা- এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে তারা কোনো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। শার্টটি এখন মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শাহ আলমের হেফাজতে রয়েছে।
রংপুর পুলিশের এএসপি (সার্কেল-১) সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, ডোবায় তল্লাশির সময় যে শার্টটি পাওয়া গেছে, সেখানে রক্তের মতো দাগ রয়েছে। কাদাপানিতে দাগটি ঠিক স্পষ্ট নয়। তাই শার্টের ‘ফরেনসিক’ পরীক্ষার পর বোঝা যাবে শার্টটি কার এবং ওই দাগ রক্তের কিনা। তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ ঘটনায় কোনো ক্লু পাওয়া যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল। তবে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে বলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পরিবার থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত নিয়ে দ্বিধান্বিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। কারণ রথীশ চন্দ্র নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না।