স্কুল বন্ধ রেখে মাঠ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ

স্কুল বন্ধ রেখে মাঠ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জে খালিশা মিশন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রেখে একটি শ্রেণি কক্ষ ও বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সাজুর বিরুদ্দে।

প্রায় দেড় মাস ধরে ক্লাস না করতে পেরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বিমুখ হতে বসেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ দেয়া হলেও ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের অনন্তরামপুর এলাকায় খালিশা মিশন বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পাশে ছিলিমপুর-গোপালপুর সড়ক। এই সড়কের কার্পেটিংয়ের জন্য গত ১২ জুন বিদ্যালয়টির মাঠে প্লান মেশিন (মিক্সার মেশিন), ট্রাক্টর, পিচের ড্রাম (বিটুমিন), ইট-পাথর-বালির স্তুপ করে রাখে ওই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার জন্য বিদ্যালয়টির একটি কক্ষও দেয়া হয়।

এ জন্য বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষ ও মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। পুরো বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রীতে ভরে যাওয়ায় ১২০ জন শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে পাঠালে, পিচ গলিয়ে পাথর-বালির মিশ্রনের সময় তীব্র গন্ধ ছড়ায়। এতে শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই তারা স্কুলে যেতে চায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, আগুন দিয়ে পিচ (বিটুমিন), পাথর-বালির মিশ্রন করার সময় খুবই গন্ধ হয়। আমরাও স্কুলে থাকতে পারি না। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতো না। তাই ক্লাস খুবই কম হয়েছে। প্রায় বন্ধই ছিল।

প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সাজু বলেন, আমি ঠিকাদারকে স্কুল মাঠে মালামাল রাখতে নিষেধ করলেও তারা শোনেনি।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ক্লাস বন্ধ ছিল না, মাঝে মাঝে ক্লাস হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি গত ২৩ জুলাই টিইও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।

‘এত দেরিতে কেন অভিযোগ করলেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক কোনো কথা বলেননি।

ভেণ্ডাবাড়ী ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কালিপদ চৌহান বলেন, আমি গত ১৯ জুলাই বিষয়টি জেনেছি। এরপরই ওই প্রধান শিক্ষককে ইউএনও এবং টিইও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা রওশন জাহান বলেন, আমি ক্লাস্টারের সহকারীর শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জানার পর বিদ্যালয়টির মাঠে থাকা ঠিকাদারের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেছি। সোমবার থেকে ক্লাস চলছে।

উল্লেখ্য, এলজিইডির অধীনে পীরগঞ্জের ছিলিমপুর থেকে মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর পর্যন্ত এক কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় এক হাজার ৬৬০ মিটার সড়কের কার্পেটিং হচ্ছে। মেসার্স প্রিন্স এন্টারপ্রাইজ ইমাত হোসেন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে।