সর্বত্র আলোচনা একটাই- কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র

সর্বত্র আলোচনা একটাই- কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র ৯ দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনি ডামাঢোলে মেতে উঠেছে পুরো নগরী। আর এ নির্বাচন ঘিরে এক কাতারে এসে মিলিত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী আওয়ামী লীগ-বিএনপি। চলছে নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীকের লড়াই। দিনরাত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন প্রতিশ্রæতির নানা ফুলঝুরি।
গোটা দেশ তাকিয়ে আছে এ দুই সিটির নির্বাচনি ফলাফলের দিকে। ভোটের ফলাফলে উভয় দলই আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে সুযোগ পাচ্ছেন। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মহানগর এখন সরগরম, উৎসবের নগরী। কাকডাকা ভোরে প্রার্থীরা বেরিয়ে পড়ছেন ভোটাদের খোঁজে। দিচ্ছেন সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রæতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেয়র আর কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদচারণায় রীতিমতো রোমাঞ্চিত ভোটাররা। অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টারে। দফায় দফায় প্রার্থী ও সমর্থক আসছেন বাড়ি-বাড়ি। প্রার্থীদের পদচারণা আর প্রতিশ্রæতির চলছে মহড়া। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়ি ছড়াচ্ছেন। চলছে ভ্যান, পিকাপ, সিএনজি ও রিকশায় মাইক বেঁধে প্রচারণা। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা সরকারের বড়ো বড়ো প্রকল্পের উন্নয়ন কথা তুলে ধরছেন। আর বিএনপি প্রার্থীরা তুলে ধরছেন সরকারের নানা শোষণ নিপীড়নের কথা।
নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণে ভোটারের মাঝেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগর পিতা নির্বাচন করবেন তারা। জাতীয় রাজনীতি মাথায় রেখেই ভোটাধিকার প্রয়োগের হিসাব-নিকাশ করবেন সচেতন ভোটাররা। হোটেল, চায়ের দোকান, বাসা, অফিসÑ সর্বত্র এখন আলোচনায় কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র। শুধু প্রতিশ্রæতি নয়, সত্যিকারের নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে কে হবেন নিবেদিত।
গতকাল খুলনা নগরীর দৌলতপুরে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। আর নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা ব্রিজ, মিস্ত্রিপাড়া বাজার এলাকায় প্রচারণা চালান বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
খুলনা নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার সেলিনা বেগম বলেন, প্রার্থী ও সমর্থকরা সারাদিনই বাড়িতে আসছেন। ভালোই লাগে, বড়ো বড়ো নেতারা যখন একটি ভোটের জন্য সকাল-বিকাল অনুরোধ করেন। অন্য রকম আনন্দ লাগে।
গাজীপুরে টঙ্গী এলাকার নতুন ভোটার মিলন সরদার বলেন, মনে হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। মিছিল, মিটিং, সভা, ভোট প্রার্থনাÑ সবই একইভাবে হচ্ছে।
দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে বসে নেই আওয়ামী লীগ বিএনপির হাইকমান্ড। দল দুটোর কেন্দ্রীয় নেতারাও নিজ দলের প্রার্থী জয় নিশ্চিতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উভয় দলেই গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল।
অভিযোগ রয়েছে- নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনেকে তোয়াক্কা করছেন না আচরণবিধি। মনোনয়ন দাখিলের দিন হতে উভয় দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে। বিশেষ করে বিএনপির প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দুই সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। খুলনায় সরকারদলীয় প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা আচরণবিধি মানছেন নাÑ অভিযোগ করছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
শুক্রবার বিকালে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদের সভা করেছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই সিটিতে বিএনপি প্রার্থীর জয় কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইসি দুই সিটিতেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি। উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেÑ এটা বুঝতে পেরে এসব করা হচ্ছে। আমরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দিচ্ছি। কিন্তু তাদের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। কারণ যে নির্বাচন হচ্ছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন তাই অংশ নিচ্ছি। কিন্তু দিন শেষে আমি নীল নকশার নির্বাচনই দেখছি। ইসি এই নীলনকশার অংশ।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক এসএম কামাল হোসেন বলেন, খুলনায় নৌকার জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপির প্রার্থী দিশাহারা হয়ে এসব বলছেন। মিথ্যাচার করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
ইসি সূত্র মতে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি তদারকিতে মাঠে নেমেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইসির আচরণবিধি আইনানুযায়ী, দল ও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না, শুধু পথসভা ও ঘরোয়া সভা করা যাবে। তবে জনগণের চলাচলে বিঘœ ঘটিয়ে সড়কে পথসভা করা যাবে না, বানানো যাবে না মঞ্চও। কোনো প্রার্থী প্রতিপক্ষের পথসভা ও ঘরোয়া সভায় বাধা দিতে পারবে না।
মেয়র প্রার্থীরা কোনো থানা এলাকায় একের অধিক নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিস করতে পারবেন না। নির্বাচনি অফিসে টিভি, ভিসিআর, ভিসিডি ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া ভোটের প্রচারে সার্কিট হাউজ ব্যবহার, জীবন্ত প্রতীক ব্যবহার, তোরণ নির্মাণ ও দেয়াল লিখন, যানবাহন নিয়ে মিছিল-শোডাউন, বিলেবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না।
আগামী ১৫ মে দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৭টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৯টি। মোট ভোটকেন্দ্র ২৪৫টি। গাজীপুরে ৭ মেয়র প্রার্থী, ৩৪০ জন নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন মহানগর আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আর ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৩১টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০টি। প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন ৫ মেয়র প্রার্থী, ১৮৬ জন নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী। নৌকা প্রতীকে লড়ছেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক আর ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.