‘শিক্ষক প্রশ্নফাঁসে জড়িত প্রমাণ পেলে চাকরি থাকবে না’

‘শিক্ষক প্রশ্নফাঁসে জড়িত প্রমাণ পেলে চাকরি থাকবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের নামের তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। উপসচিব মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থাসহ নামের তালিকা আগামী সাত দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে এসএসসির প্রায় সবক’টি বিষয়ের প্রশ্নফাঁস হয়। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রশ্নফাঁসে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা- তার প্রভাব নিরূপণ করতে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পেলেও বাতিল না করার সুপারিশ করেছে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কারের ঘোষণাতেও সাড়া মেলেনি।
সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসকে প্রযুক্তির উন্নয়নের সমস্যা হিসেবে অবহিত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে কিছু শিক্ষক মোবাইল ফোন বা অন্যান্য কিছু ব্যবহার করে তারা আগে প্রশ্নপত্র খুলে এটা প্রচার করে দেয়। এতে তারা অর্থ রোজগারের পাশাপাশি সরকারকে বেকাদায় ফেলতে চান। এমন কিছু সংখ্যক শিক্ষক, যারা আমাদের সম্মান নষ্ট করছে, সার্বিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। আমরা একটা ব্যবস্থা নিলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এবার কঠোর অবস্থা নেওয়ার কারণে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এবার আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছি। আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, কোনোভাবে কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই শিক্ষকের চাকরি থাকবে না। ওই স্কুলের কেন্দ্র বাতিল হবে, এমনকী স্কুল বাদ দিতে পারি। এছাড়া কোন ধরণের মোবাইল ফোন কেউ হলের আশপাশে নিতে পারবে না। এটা আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এখন বিজিপ্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁসের কোন সম্ভবনা নেই বা হয়ও না। সমস্যা হচ্ছে আমরা যখন পরীক্ষার দিন সকাল বেলায় বিভিন্ন সেন্টারে প্রশ্ন পাঠাই। দূর, দূরান্তের স্কুল গুলোতে দুই ঘণ্টা, চার ঘণ্টা আগে পৌঁছে দেওয়া হয়। এখন দেখা যাচ্ছে যাদের হাতে পৌছে দেই, যেখানে আমাদের নিরাপদ ভাবা উচিত, সেখান থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষক তারা সরাসরি যুক্ত।
এছাড়াও বিভিন্ন সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রশ্নফাঁসে জড়িত শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা হবে বলে জানান। সরকার বার বার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও কিছু সংখ্যক শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁসে সরাসরি জড়িত। এ জন্য এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, কোনো শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার চাকরি থাকবে না।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.