রাজশাহীতে নাম পালটিয়ে শপিং নিয়ে এলো প্রতারক ডেসটিনি

রাজশাহীতে নাম পালটিয়ে শপিং নিয়ে এলো প্রতারক ডেসটিনি

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে:
রাজশাহীতে আবারো ফিরেছে বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানী ডেসটিনি। একসময় এ অঞ্চলে রমরমা বাণিজ্য করা ডেসটিনি এবার ফিরেছে অনলাইনে কেনাবেচার ফন্দি নিয়ে। আমার বাজার লিমিডেট নামে একটি অনলাইন শপিং নামে রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ ও সেমিনার হয়েছে। নওদাপাড়া এলাকার জাতীয় স্কাউট ভবনে আয়োজিত ওই সেমিনারে ডেসটিনির আগের কয়েকশ কর্মী অংশ নেন। ঘটা করে এ আয়োজন হলেও তা টেরই পায়নি পুলিশ। বিষয়টি স্বীকার করে নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি তারা জানতেননা। এমনকি আয়োজনের অনুমতিও নেয়া হয়নি। তবে এমন আয়োজন হলে অবশ্যই পুলিশের অনমতি নেয়ার কথা। জানা গেছে, রাজশাহীতে এ আয়োজনে ছিলেন ডেসটিনির ওই সময়ের রাজশাহী নেট অফিস ডেভেলপমন্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট মনজুর রহমান টুকু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমার বাজার ডটকম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান খান ও আইটি ইনচার্জ আশরাফুল আমীন। এদের মধ্যে আশরাফুল আমীন ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আমীনের ভাইয়ের ছেলে। তিনি প্রতিষ্ঠাটির সিও ছিলেন। ওই সেমিনারে ডেসটিনির আদলে আমার বাজার লিমিটেডের ব্যবসায়ীক পরিকল্পনা তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা। এতে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, ডেসটিনির আদলে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে আমার বাজার লিমিটেড। কিন্তু বিষয়টি ততটা সহজভাবে নেননি অনেকেই। ডেসটিনিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আবারো এমএলএম ফাঁদে চড়াতে রাজি নন তারা। এদিকে অল্প দিনে বড়লোক বানিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে রাজশাহীজুড়ে গণপ্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল কথিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড। লোভে পড়ে সেই ফাঁদে ধরা দিয়েছে রাজশাহীর হাজার হাজার গণমানুষ। এই সুযোগে ডেসটিনির কয়েকজন ব্যক্তি বিনা শ্রমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ডেসটিনির ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার মানুষ কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর এসব টাকা এখন পর্যান্ত ফেরৎ দেওয়া হয়নি বলে শতাধিক অভিযোগ পাওয়াগেছে। জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় ডেসটিনি কোম্পানীর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ঐ কোম্পানীর সুবিধাভোগীরা সহজ সরল সাধারণ মানুষকে ডেসটিনি অফিসে বসে টার্গেট নিয়ে কোম্পানীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তাদের পিছনে লেলিয়ে দিয়ে কোম্পানীতে ভর্তি করার। ডেসটিনি -২০০০ লি. নামের কোম্পানী বাগমারার বিভিন্ন্ এলাকার বেকার ছেলে ও মেয়েদেরকে বেশ কিছুদিন হকারী স্টাইলে ট্রেনিং করিয়ে কোম্পানীর উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার অভিনব কায়দা শিখিয়ে মাঠ পর্যায়ে ছেড়ে দেন। কর্মীদেরকে বুঝানো হয় বাজারে প্রত্যেকের যেমন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কিনতে হয় তা আমাদের কোম্পানীর মাধ্যমে কিনতে হবে। ফলে ঐ পণ্যের লাভের অংশ ক্রেতা নিজেও পাবে এবং সিংহ ভাগ পাবে যে বা যারা তাকে কিনাতে বাধ্য করবে। তবে কেউ পণ্য না নিয়ে ৫হাজার থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা অথবা তদুর্ধ পর্যন্তত টাকা একই ব্যক্তি ডেসটিনিতে জমা দিয়ে পয়েন্ট ক্রয় করে কোম্পানীর সদস্য পদ লাভ করতে পারবে । এবং তার প্রদান কৃত টাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যারা তাকে ভর্তি করিয়েছে তারা ভাগাভাগি করে নেয়। যে একবার ভর্তি হবে তাকেই অব্যশই তার নিচে আরও ৮ জন অথবা তদুর্ধ ব্যক্তিদেরকে ভর্তি করাতে পারলে তবেই সে ডেসটিনি কোম্পানী থেকে বেতন উত্তেলন করতে পারবে । তবে যদি সে ভর্তি করাতে না পারে তবে তার কোন বেতন থাকবে না। আবারো কারও কারও নিকট থেকে এককালীন পাঁচ হাজার দশ হাজার ,এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ, দশ লাখ টাকা নিচ্ছে এমন শর্ত জুড়ে দিয়ে যে ৫ বছর পর তার টাকার ১২ গুণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ প্রশ্ন করে এত টাকা কিভাবে দিবে? ডেসটিনি উত্তরে কোম্পানীর কর্মকর্তারা তাদের মনোনিত গ্র্রাহকদের বুঝায়, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, খুলনা সুন্দরবন এলাকায় উন্নতজাতের গাছ রোপণ করা হচ্ছে। যার মূল্য হবে ইনভেস্টমেন্টের ২০ গুণ। এরমধ্যে ১২ গুণ সদস্যকে দিবে আর অবশিষ্ট কোম্পানী লাভ করবে । আবার কাউকে বুঝাচ্ছে এমনভাবে যে বঙ্গোপসাগরের বেশ কিছু অংশ ভারত বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকারের নিকট থেকে এ কোম্পানী লীজ গ্রহণ করে উন্নত ইলিশসহঅন্যান্য দামী মাছ চাষ করছে যার লভ্যাংশ হবে ইনভেস্টমেন্টের ৬০ গুণ। যারা ডেসটিনি কোম্পানীতে কাজ করে তারা সর্বদা ফিটফাট থাকে। অশিক্ষিত হলে ও কোট টাই ব্যবহার করে, লোক মুখে গেয়ে বেড়ায় সে এখন সপ্তাহে ৫০ হাজার অথবা তার চেয়ে বেশী বেতন পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের তারা প্রতারণা আর প্রলোভনের ফাঁদ পেতে কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডেসটিনির স্থানীয় এজেন্ট বা মাঠকর্মীরা। বিভিন্ন পদমর্যাদাসম্পন্ন ডেসটিনির কর্মকর্তারাও টাকা লগ্নি করে এখন হতাশ। নিঃস্ব অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ডেসটিনির মাঠকর্মীদের বিচার চেয়েছেন। এসব নিঃস্বরা ডেসটিনির স্থানীয় এজেন্ট বা মাঠকর্মীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে হতদরিদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের দাবি করে স্থানীয় সাংসদ, দূর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী ডেসটিনির প্রতারণা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে রাজশাহীর গ্রাহকদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ডেসটিনির হাজার হাজার গ্রাহকের কেউ লাভবান হয়েছে এমন প্রমাণ বা নজির নেই-এমন কথাও বললেন গ্রাহকদের অনেকেই। ডেসটিনিতে বিনিয়োগকারীরা হতাশা ব্যক্ত করে তাদের দেয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির রাজশাহীর সমন্বয়কারী ও ডেসটিনির রাজশাহী নেট অফিস ডেভেলপমন্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট মনজুর রহমান টুকু। নিজেকে আমার বাজার লিমিটেডের ক্রেতা দাবি করে তিনি বলেন, এটি এটি এমএলএম কোম্পানী নয়, কেবলই অনলাইন বিপনণ কেন্দ্র। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনিয়ে চুক্তি করেছেন। তাদের পণ্য পৌঁছে দেবেন গ্রাহকদের কাছে। এ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ জুন থেকে। এসময় এ আয়োজনে নগর পুলিশের অনুমতি দেয়ার কথাও জানান তিনি।#




One thought on “রাজশাহীতে নাম পালটিয়ে শপিং নিয়ে এলো প্রতারক ডেসটিনি

Comments are closed.