রাজশাহীতে ধান-চালের মজুদ রাখার দায়ে মাত্র ২মিলে জরিমানা’ উপজেলাগুলোতে অভিযান নেই!

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরীর সপুরায় বিসিক শিল্প এলাকায় ধান-চালের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে কয়েকটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল। অভিযানে আসলাম রাইস মিলের কয়েকটি গুদামে এক হাজার ২৮৫ বস্তা ধানের মজুদ পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া হা-মীম এগ্রো ফুড নামের একটি রাইস মিলের আরও কয়েকটি গুদামে চার হাজার ২৯ বস্তা চাল মজুদ পাওয়া গেছে। এদিকে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অভিযান না থাকায় চাল ব্যাবসায়ীরা যেমন খুসি তেমন দাম হাকিয়ে নিচেছ। এবং কৃষক ও প্রভাবশালী বৃতমানেরা বাজারে চালের দাম দেখে ধান সেন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদাম জাত করে রেখেছে। বর্তমানে চালের বাজার কমাতে সরকারের উচিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়ে গুদাম জাত করা লাখ লাক টন ধান উদ্ধার করে সরকারের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে এলাকা অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসি সুত্রে জানাগেছে রাজশাহীর বিসিক শিল্প এলাকার আসলাম রাইস মিল ও হা-মীম এগ্রো ফুড মিলের কোনো লাইসেন্সও নেই। এ কারণে আসলাম রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আসলাম তোহা এবং হা-মীম এগ্রো ফুডের ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদের দায়ে আসলাম রাইস মিলকে ৫০ হাজার এবং হা-মীম এগ্রো ফুডকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাইস মিল দুটির পক্ষ থেকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হলে আটক দুই জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত মজুদ করা ধান-চাল বাজারে বিক্রি করে দেয়ার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাবাসসুম ও রহিমা সুলতানা বুশরা, রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম, জেলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক মীর্জা জাকারিয়া আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তা করে পুলিশের একটি দল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হা-মীম এগ্রো ফুড কর্তৃপক্ষ রাজশাহীতেই চাল প্রক্রিয়াজাত করে। তবে তারা চালের বস্তায় কুষ্টিয়ার মেসার্স হালিমা অটো রাইস মিলের স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করে। অন্যদিকে আসলাম রাইস মিলে পাঁচজন ফড়িয়া বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ করেন। তারা এই মিলের চাতালের শ্রমিকদের মাধ্যমেই ধান থেকে চাল প্রস্তুত করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল বলেন, মিল দুটিতে তিন-চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদ করা হয়েছিল। এভাবে ধান-চালের মজুদ করার এখতিয়ার এসব মিল মালিকদের নেই। তারা অবৈধভাবেই এই বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের মজুদ করেছেন। বাজারে চালের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির জন্য এরাও দায়ি। রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এ ধরনের মিল পরিচালনা করতে হলে সরকারি লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু হা-মীম এগ্রো ফুড ও আসলাম রাইস মিলের কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স থাকলে তাদের মজুদের তথ্য খাদ্য অফিসে সরবরাহ করতে হতো। ফলে মিল মালিকরা ধান-চালের অতিরিক্ত মজুদ করতে পারতেন না। এ জন্য তারা লাইসেন্সই করেননি। তিনি জানান, জেলায় ৩২২টি মিলের লাইসেন্স আছে। বাকিগুলো চলছে লাইসেন্স ছাড়াই। তারা মনে করছেন, লাইসেন্সহীন চাল মিলের গুদামে অতিরিক্ত মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে। তাই ধান-চালের এ অবৈধ মজুদ ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে তারা সব মিলের গুদামেই অভিযান চালাবেন। এদিকে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অভিযান না থাকায় চাল ব্যাবসায়ীরা যেমন খুসি তেমন দাম হাকিয়ে নিচেছ। অপরদিকে কৃষক ও প্রভাবশালী বৃতমানেরা বাজারে চালের দাম দেখে ধান সেন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদাম জাত করে রেখেছে। বর্তমানে চালের বাজার কমাতে সরকারের উচিত বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে গুদাম জাত করা লাখ লাক টন ধান উদ্ধার করে সরকারের আওতায় আনা হয় বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন। #