রাজশাহীতে ওএমএসের চাল বিক্রি নিয়ে ডিলারদের ধীরগতি’চালের দাম উর্ধ্বমুখী

রাজশাহীতে ওএমএসের চাল বিক্রি নিয়ে ডিলারদের ধীরগতি’চালের দাম উর্ধ্বমুখী

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
গরীবের মোটা চালসহ সব রকমের চালের দাম উর্ধ্বমুখী। অতীতের সকল রের্কড ছাড়িয়ে গেছে চালের দামে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের জনসারনেরা। এবং তার সাথে যোগ হয়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর অবস্থাও এখন দুর্বিসহ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি উদ্যোগে ওএমএস চালু হলেও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলাসহ দুইটি পৌরসভা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কোনো রকম চাল বিক্রি শুরু হয়নি। এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়নি। তাই বাগআরা উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনিকেট চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকা পর্যন্ত। সে জন্যই তাহেরপুর পৌরসভা ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা হাট-বাজারসহ ১৬টি ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনও ইতিবাচক চালের দাম কমতির প্রভাব পড়েনি। তবে আওয়ামীলীগের উপজেলা এক নেতা জানিয়েছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ওএমএসের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে চাল বিক্রয় শুরু করা হবে। এবং প্রতি শুক্রবার ছাড়া সপ্তায় ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব চাল বিক্রয় করা হবে। এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ওএমএস চাল বিক্রির নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। অপদিকে তানোরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএসের চাল বিক্রি নিয়ে শুরুতেই অনিয়ম অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ডিলার ও খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা এসব সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভোক্তাদের দাবী, সরকারের ওএমএস চাল বিক্রয়ে নিযুক্ত ডিলাররা প্রভাবশালী নেতা হওয়ার সুবাদে শুরুতেই এমন অনিয়ম শুরু হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে সরকার নি¤্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি শুক্রবার ছাড়া সপ্তায় ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব চাল বিক্রয় করা হবে। এজন্য উপজেলা সদরে ও সদর বহিরভূত মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ৩ জন করে ৬ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে ওএমএস চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ডিও দেয়া হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নাজমুল হক। খাদ্য অফিস জানায়, উপজেলা সদরের কালিগঞ্জহাট নামক স্পটে তানোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন, গোল্লাপাড়াহাট নামক স্পটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সুনিল কুমার দাস ও তালন্দ হাট নামক স্পটে ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলফাজ মন্ডলকে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া উপজেলা সদর বহিরভূত মুন্ডুমালা বাজার পূর্ব স্থলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন, আইড়্যা মোড় নামক স্থানে উপজেলা যুবলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারী দেবানন্দ বর্মন ও পাঁচন্দর মোড় নামকস্থলে যুবলীগ নেতা নূরে আলম সিদ্দিকীকে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, নিয়োগকৃত প্রত্যেক ডিলারকে প্রতিদিন ১ মেট্রিকটন চাল উত্তোলন করে বিক্রি করতে পারবে। আঠাশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা কেজি দরে এ চাল ক্রয় করতে পারবে। সর্বোচ্চ ত্রিশ টাকা দরে একেক ভোক্তা পাঁচ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবে জনগন। এজন্য প্রত্যেক ডিলারের দোকানে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সদরে গোল্লাপাড়া বাজারস্থ ওএমএসের চাল বিক্রির স্পটে তানোর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম সেলিমকে কাগজে কলমে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হলেও তিনি এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে এপ্রতিবেদককে সাফ জানিয়েছেন। একই কথা জানান, তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ওএমএসের চাল বিতরণ স্পটে নিযুক্ত অন্যান্য ট্যাগ অফিসারগণ। ভোক্তাদের অভিযোগে প্রকাশ, দায়িত্বে থাকা কতিপয় খাদ্য কর্মকর্তার গাফলতির কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের চাল উত্তোলনের ডিও দেয়া হয়। খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করেন সংশ্লিষ্ট ডিলাররা। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্রি বা বিতরণ চোখে পড়েনি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষ। এসব অনিয়মের কারণে তানোরে শুরুতেই ভেস্তে যেতে চলেছে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। তবে, চাল উত্তোলনের ডিও দেরীতে পাওয়া গেছে। একারণে ভোক্তাদের কাছে চাহিদা মোতাবেক বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। শুক্রবার খাদ্য পরিদর্শক মাজেদুল ইসলামের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ডিলাররা ভোক্তাদের কাছে বিক্রয় প্রক্রিয়া যথাসময়ে শুরু করবেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলে তিনি জানান, এবিষয়ে ইউএনও শওকাত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন গত বুধবারে চাল উত্তোলন করতে না পারার কারনে হয়নি বিক্রি। বৃহস্পতিবারে চাল উত্তোলন করা হলেও কোন ডিলার বিক্রি করেননি জানতে চাইলে ইউএনও বলেন দেরিতে উঠানোর জন্যে হয়ত বিক্রি করতে পারেননি, আগামী শনিবার থেকে সকল ডিলারকে চাল বিক্রি করতে হবে বলে জানান তিনি।#