মেয়র কাজলের ‘ভিশন টুয়েন্টি ২৪’

মেয়র কাজলের ‘ভিশন টুয়েন্টি ২৪’

শাহাদাত হোসেন লিটন, আখাউড়া থেকে: আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত এই পৌরপিতা আখাউড়া পৌরসভা নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলেছেন। জানিয়েছেন কিভাবে দেখতে এই পৌরসভাকে। বিডি মেয়র ডট-এর সঙ্গে আলাপকালে দৃঢ়তার সঙ্গে মেয়র কাজল বলেন, আখাউড়া হবে দেশের সকল পৌরসভার জন্য উদাহরণ। সারা দেশের মানুষ এই পৌরসভাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করবে। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি আমি।
আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এই জননেতা। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি ১৪,৬৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ৮.৩৩ বর্গ কি.মি. আয়তনের আখাউড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ২০১২ সালে তাকজিল খলিফা কাজল প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এন এম হাসান খানের মৃত্যুতে এই পৌরসভায় উপনির্বাচন করা হয়। প্রথম চার বছর মেয়াদকালে আখাউড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন এমন দাবি করেছেন তাকজিল খলিফা কাজল। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। যে কারণে উন্নয়নের ব্যাপারে তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের সহযোগিতায় আখাউড়া পৌরসভাকেও বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক সুন্দর পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এটা আমার প্রত্যয় দিপ্ত অঙ্গীকার। আখাউড়া পৌরসভাকে ঘিরে মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল জানান, তার একগুচ্ছ স্বপ্ন আকাক্সক্ষার কথা। তিনি বলেন, প্রথম মেয়াদে চার বছর আমি মেয়র হিসেবে স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তাই পৌরবাসী ভোট দিয়ে আমাকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করেছেন। আশা করি চলতি মেয়াদে আমি সুখে-দুঃখে পৌরবাসীর পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পাব। আখাউড়া পৌরসভার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে কাজল বলেন, আমি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করতে চাই। তিনি সব সমস্যা সমানভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে সমাধান করার কথা বলেন। তিনি আখাউড়া পৌরসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক ও বিদ্যালয়ের সংকট এবং একটি পৌর মার্কেটের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তার দৃষ্টিতে পৌর মার্কেট না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র বসে ব্যবসা করার কারণে শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজট নিয়ন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, পৌর এলাকার যানজট মুক্ত করতে শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালন্দি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে সেখানে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করার পরিকল্পনা তার রয়েছে। এতে করে শহরের রাস্তা প্রশস্ত হবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। তাছাড়া শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ বরাদ্দ দেয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এলাকায় সেমিনার ও ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে পৌর এলাকাকে মাদকমুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত মেয়াদে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তার পরও কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তা নিরসনে পৌরসভা সব সময় সচেতন। তারুণ্যের উদ্দীপ্ত আখাউড়া পৌরসভার মেয়র বলেন, ২০১৩ সালে ১২ই মার্চ আখাউড়া পৌরসভা ২য় গ্রেডে উন্নীত হয়। এর পর থেকে পৌরসভার রাস্তাঘাট, সড়ক বাতি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। পৌর এলাকার মোট ৮৭ কি.মি. রাস্তার মধ্যে মাত্র ১৫ কি.মি. কাঁচা রাস্তা রয়েছে। অচিরেই এগুলো পাকাকরণের কাজ শুরু হবে। এখন ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক পৌর পার্ক নির্মাণ, নিরবচ্ছিন্ন সড়কবাতি পৌর এলাকায় স্টেডিয়াম ও অডিটোরিয়াম নির্মাণ, শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন স্থানে ফুলের বাগান ও ফোয়ারা নির্মাণ, পৌর লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা- এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আখাউড়া পৌরসভা কাজ শুরু করেছে। সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য শহরের কলেজপাড়া এলাকায় একটি ডিপ টিওবওয়েল বসানের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা হচ্ছে। তাকজিল খলিফা বলেন, পৌরসভার গতানুগতিক রুটিন উন্নয়ন ছাড়া নাগরিকদের বাড়তি সুবিধার জন্য রয়েছে তার ব্যাপক পরিকল্পনা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আখাউড়া পৌরসভার ২৫ বছর পূর্তি হবে। পৌরসভার এ রজতজয়ন্তিকে টার্গেট করে তিনি ঘোষণা করেছেন ভিশন টুয়েন্টি ২৪ কর্মসূচি। এ সময়ের মধ্যে পৌর এলাকায় গড়ে তোলা হবে ১৫ হাজার দক্ষ প্রশিক্ষিত নাগরিক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি গত মেয়াদ থেকে কাজ শুরু করেছেন। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, স্পোকেন ইংলিশ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, মোবাইল টেকনিশিয়ান তৈরি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। তাছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে ইমাম ও পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ ও তাদের সম্মানি প্রদান, মেধাবী ও অসহায় ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, অসচ্ছল নারী ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সিটিজেনদের ভাতা প্রদান, সর্বোপরি পৌর এলাকার সর্বত্র জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি টিভির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।