বেড়া শেখপাড়াবাসীর স্বপ্নপূরণ

বেড়া শেখপাড়াবাসীর স্বপ্নপূরণ

সাইদুর রহমান বকুল, বেড়া (পাবনা) থেকে : বেড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে শেখপাড়া মহল্লার অবস্থান। দরিদ্র জনঅধ্যুষিত এ মহল্লাবাসী রাস্তা না থাকায় ও জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একরকম বন্দী হয়ে ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন সহায়ক তহবিলে বেড়া পৌরসভার উদ্যোগে মহল্লাবাসীর জন্য রাস্তা নির্মিত হওয়ায় সেই বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়েছে তারা। এতে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাসহ ড্রেন নির্মাণের যে স্বপ্ন তারা দেখে আসছিল সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রেনসহ রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে রাস্তাটির নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করার কথা থাকলেও এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই রাস্তাটিকে ব্যবহার করা শুরু করেছে। এ কারণে শুধু শেখপাড়াবাসীই নয়, পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ।
বেড়া পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রাস্তাটি ব্যতিক্রম ধরনের। এতে রয়েছে প্রশস্ত ড্রেন এবং ড্রেনের ওপরে রয়েছে টাইলস করা সুদৃশ্য সড়ক। ড্রেনসহ রাস্তাটি ১১ ফুট চওড়া।

গতকাল (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল) ড্রেনসহ রাস্তাটি পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোখলেসুর রহমান সরকার। তার আগমন উপলক্ষে নবনির্মিত রাস্তার ওপরে এলাকাবাসী ও বেড়া পৌরসভার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা রায়হান, নাগরিক কমিটি বেড়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলমাহমুদ সরকার প্রমুখ। আলোচনাসভায় শেখপাড়া মহল্লাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মহল্লার পাঁচ শতাধিক নারী অংশ নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
এদিকে শেখপাড়াবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মহল্লায় প্রায় তিন হাজার মানুষ ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করেন। বাসিন্দাদের বেশির ভাগই হতদরিদ্র। বেড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এমনকি ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পরেও এ মহল্লায় হয়নি তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস এ মহল্লার বাসিন্দাদের জলবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনকি জলাবদ্ধতায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। এ ছাড়া শেখপাড়াবাসীর ওই মহল্লা থেকে বাইরে বের হওয়ার মতো রাস্তা নেই। অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে এমনকি ঘরের ভেতর দিয়েও তাদের মহল্লা থেকে বাইরে যাতায়াত করতে হয়। এ জন্য স্বাধীনভাবে অনেকেই চলাচল করতে পারেন না। তাই মহল্লাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা দূরীরকরণ ও রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত দাবি পূরণ হওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক আনন্দ।
মহল্লার বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমাগরে মহল্লার যে অবস্থা তাতে রাস্তার অভাবে লাশ বাইর করার মতো অবস্থা ছিল না। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে আমাগরে কুনু স্বাধীনতা ছিল না। তাই রাস্তা ও ড্রেনের স্বপ্ন আমাগরে দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরন হওয়া আমাগরে খুশির সীমা নাই।’
আরেক বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক বছর বর্ষা শুরু হলি বাড়িঘর ডুইব্যা যাওয়ায় অন্য জায়গায় যায়া আশ্রয় নেয়া লাগতো। রাস্তা আর ড্রেনের কাম শেষ হওয়ায় আমাগরে দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হইছে।’
বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বেড়া বাজারের কালীবাড়ি থেকে শেখপাড়া হয়ে ধানিয়াপট্টি পর্যন্ত রাস্তাসহ ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। এই রাস্তা ও ড্রেনের সুফল শুধু শেখপাড়াবাসীই নন, গোটা পৌরবাসীই পাবেন।’




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.