বাগমারায় বন্যায় ৫শ’ কোটি টাকার ফসল এখনো পানির নীচে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ৫শ’ কোটি টাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে হতাশায় ভোগছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। বন্যার পানি বেশকেছু যায়গায় ধীরগতিতে নেমে গেলেও অনেক যায়গায় এখনো এক বুক পানির নিচে ফসল রয়েছে। বন্যার পানিতে ও অধিক বৃষ্টিাপাতের কারনে উপজেলার পাকা রাস্তা এবং গ্রামীন কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান বানভাসি মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে নারী, শিশু সহ পরিবারের বৃদ্ধরা। জানাগেছে,চলতি বছর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ও ৮৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ছয় হাজার ৬৯১ হেক্টর জমির রোপা আউশ ও ৩২১ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পরিমাণ জমিতে মোট ৩৬ হাজার ৮১৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, এখন ধানের মণ ১২শ’ টাকা করে। এই বাজার দর হিসাবে বন্যায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০০ টাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পানি নেমে গেলেও এসব ধানখেত আর রক্ষা করা যাবে না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বন্যায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নই ঝুঁকিতে। বন্যায় এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেতের ধান গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ বলছে এই মূহুর্তে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করা সম্ভব নয়। কারণ ধানের পাশাপাশি ওই সব এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন তরিতরকারি এবং পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য চাষিদের কোটি কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে গেছে শত শত পান বরজ, ধান, মরিজ, পাট ক্ষেত, ভেঙ্গে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি। এসব হিসাব এখনও শেষ হয়নি। উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামের মেম্বর শহিদুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গার মোনতাজ হোসেন, শুভডাঙ্গার আলতাফ হোসেনসহ অন্তত ২০-২৫ জন বলেছেন, তাদের খেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একই ভাবে হলুদঘর গ্রামের শাহিদা বেগম, কামনগর গ্রামের ওয়াহেদ জানান, অনেক আশায় ছিলাম এবারে পানবরজ থেকে আয় আসবে তা দিয়ে পরিবারের ও নিজের জন্য এবারে ঈদে কোরবানীসহ জামা-কাপড় হবে। কিন্তু সর্বনাশা বন্যায় সব শেষ করে দিয়েছে। বীরকয়া গ্রামের বানভাসি আবু জাফর আল মুনসুর, আলাউদ্দিন, আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান, বাড়িঘর ছেড়ে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে প্রত্যন্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানি বাহিত রোগ হবার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বানভাসিরা।#