প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা হচ্ছে না’ বাগমারার নদী গুলোতে অবৈধ সুতি জাল দিয়ে মাছের বংশ করছে ধংস

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা হচ্ছে না’ বাগমারার নদী গুলোতে অবৈধ সুতি জাল দিয়ে মাছের বংশ করছে ধংস

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বারানই নদী ও ফকিরনী নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট সুতি জাল ও বাঁধ খেয়া দিয়ে দেদারছে চলছে রেণু পোনা নিধন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, উন্মুক্ত জলাশয়ে কোন রকম বাঁধ খেয়া বা সুতি জাল ব্যবহার করা যাবে না। প্রান্তিক জেলেরা উন্মুক্ত জলাশয়ে সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী মাছ শিকার করতে পারবেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় মৎস্য অফিসকে ম্যানেজ করে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই তারা সরকার নিষিদ্ধ সুতি জাল ও বাঁধ খেয়া দিয়ে পোনা মাছ নিধন করেই চলেছে। এতে মা মাছ ও পোনাসহ সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। আর অবাধে নিধন করা হচ্ছে ছোট মাছ।এসব মাছ উপজেলার তাহেরপুর,ভবানীগঞ্জ মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে দেখা যাচেছ। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় চলছে ছোট মাছের আকাল। সিন্ডিকেটের কালো থাবায় তারা ভাড়াটিয়া জেলে দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের অবৈধ জালে মা ও পোনা মাছ আহরণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এভাবে মাছ ধরায় মাছ শন্য হয়ে পড়ছে বারানই ও ফকিন্নী নদি। তবে দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষা করতে ছোট মাছ নিধন বন্ধ করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে বলে উপজেলার সচেতন মহল মনে করেছেন। স্থানীয় প্রান্তিক জেলেরা একাধিকবার বাঁধ খেয়া ও সুতিজাল উচ্ছেদের জন্য আবেদন নিবেদন করলেও স্থানীয় প্রশাসন কর্ণপাত করছেন না। মাঝে মাঝে দু’ একটি ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করলেও ফলাফল শূণ্য। দু একটি বাঁধ খেয়া ও সুতিজাল উচ্ছেদ করার পরপরই আবারও একই স্থানে তারা বাঁধ খেয়া ও সরকার নিষিদ্ধ সুতিজাল ব্যবহার করছে। জানা গেছে, বাগমারা উপজেলার বারানই ও ফকিরনী (রাণী) নদীতে প্রায় অর্ধশতাধিক বাঁধ খেয়া ও সুতিজাল রয়েছে। এরা এতই ক্ষমতাধর যে, স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র হত দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন পড়েছে চরম বেকায়দায়। কারাণ প্রতি ৫শ গজ পর পর একটি করে সুতিজাল ও বাঁধ খেয়া থাকায় মাছ স্বাভাবিকবাবে চলাচল করতে পারছে না আর যে টুকু চলাফেরা করছে সেগুলো চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী বাঁধ খেয়া ও সুতিজাল মালিকদের পটেকে। ভরা মৌসুমে নদীতে মাছ না পেয়ে গরিব জেলে সম্প্রদায়ের লোকজনেরা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খেয়া জাল ব্যবহার করে সারা দিনেও ১শ টাকারও মাছ তারা পাচ্ছে না বাঁধ খেয়া ও সুতি জালের কারণে। জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ বাঁধ খেয়া ও সুতিজাল অপসারণের দাবী জানিয়েছেন দরিদ্র জেলেরা। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এলিজা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পর্যপ্ত লোকবল না থাকার কারণে সময়মত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ম্যাজিট্রেটের অভাবেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্ত আকারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে পোনা মাছ অবমুক্ত করণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের সাথে রুই, কাতলা, মৃগেল মাছের চুক্তি থাকলেও অবমুক্ত করণে দেখা যাচ্ছে কমদামী সিলভার কার্প মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও যে পরিমান মাছ ছাড়ার চুক্তি আছে কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও বাস্তবে তা নেই বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। #