তাহেরপুর হাটে অসাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ ও মাংসের দাম আকাশচুম্বী’নিয়মিত মনিটরিং হয়না

তাহেরপুর হাটে অসাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ ও মাংসের দাম আকাশচুম্বী’নিয়মিত মনিটরিং হয়না

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে:
কনো তালিকা ছাড়ায় নিজেরা সিন্ডিকেট করে মাছ-মাংসর দাম বৃদ্ধি করছে ব্যবসায়ীরা। এমনি ঘটনাটি বাগমারার তাহেরপুর হাট-বাজারে বেড়েছে মাছ ও মাংসের দাম। হঠাৎ করেই এমন আকাশচুম্বী দাম দেখে অনেকেই বাজার করতে এসে অনেকটা হোঁচট খেয়েছেন। আবার অনেকেই এমন দাম দেখে বাজার না করেই খালি ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অসাধু ব্যাবসায়ীরা এভাবে সিন্ডেকেট করে দাম বাড়ালেও খোঁজ রাখেন না উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও তা না করে প্রতি হাটে ঠিকই নিয়মিত সুবিধা আদায় করেন হাট ইজারাদারেরা। এদিকে তাহেরপুরের কসাইরা দীর্ঘদিন যাবত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে চলছে। কসাইখানায় অসাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে দেদাসে বিক্রি করছে তারা। পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি আইন থাকলেও এর কোন প্রয়োগ নেই। এতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাওয়াও এখন অনিশ্চিত বলে হাজার হাজার জনসাধারনের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পশু জবাই করার কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য গরম পানি, পশু রাখার শেড, পশুর রেস্টরুম, জবাই শেড, জবাই করার পর পরীক্ষাগার, ডাক্তার, ইন্সপেক্টর, জবাই করার হুজুর, ক্লিনার গার্ড ও মাংসের গায়ে সিল থাকতে হবে। তাহেরপুর হাট-কাজারে কনো কসাইখানা নেই এবং জঘন্য পরিবেশ বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার-সোমবার উপজেলার তাহেরপুর হাট বার। অনেকেই বাড়ির জন্য মাছ মাংস কিনতে এই হাটে আসেন। তবে বাজারে মাছ ও মাংসের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই যেন আকাশ থেকে পড়েছেন। তাহেরপুর এলাকার ক্রেতা জুলহাস জানান, সোমবার সকালে হাটে আসেন মাংস কিনতে। অন্যান্যদিনে গরুর মাংসের মুল্য প্রতি কেজি ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও তার কাছে মাংস বিক্রেতারা দাম চান ৫০০ টাকা কেজি দর। দরদাম করে অবশেষে তাকে মাংস কিনতে হয়েছে ৪৮০ টাকা কেজি দরে। গোপালপুর এলাকার ফারুক হোসেন জানান, তিনি সোমবারে মাংস কিনতে আসেন। কিন্তু দাম শুনে আর মাংস নেয়া হয়নি তার। এ কারনে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর সাথে হয়তো ঝগড়াও করতে হতে পারে বলে তিনি জানান। বাগমারা উপজেলা ভবানীগঞ্জ সদরের রেজাউল করিম জানান, বড় সাধ করে তাহেরপুর হাটে খাসির মাংস কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু তার দাম বেশি দেখে কিনা হলোনা। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্যদিন প্রতি কেজি খাসির মাংস ৫০০ টাকা থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হলে সোমবার সেই মাংস তাকে কিনতে হয়েছে ৬৫০ টাকা কেজি করে। কয়েকজন মাংস বিক্রেতাদের কাছে দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা বলেন, উপর মহলে কথা হয়েছে। লিখে লাভ নাই। তারা দাম বৃদ্ধির খবর জানেন। অপরদিকে একই অবস্থা ছিলো মাছের বাজারে। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে ১০০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দরে। অথচ এই ইলিশ মাছ গত হাটেও ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়েছে। হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মাছ বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কম ছিলো আর বাজারে ব্যাপক চাহিদা ছিলো তাই বাজার একটু চড়া। তবে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর কথা অস্বীকার করেন তারা। অথচ এক সময় তাহেরপুর হাট থেকে যে পরিমাণ মাছ ও মাংস উৎপাদন হয় তা কেবল তাহেরপুরেই নয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অথচ অসাধু ব্যাবসায়ীরা এভাবে মাছ ও মাংসের দাম বাড়ালেও সে খবর জানাই ছিলোনা উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও কাগজে কলমে তা সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানাগেছে।#