তানোরে তিন নেতার আগমনে ঈদের রাজনীতিতে চাঙ্গা

তানোরে তিন নেতার আগমনে ঈদের রাজনীতিতে চাঙ্গা

নাজিম হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে ঈদকে কেন্দ্র করে আগমন ঘটেছে হেবিওয়েট তিন নেতা। তাদের আগমনে জমে উঠেছে ঈদ রাজনীতি। সেই সাথে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় ছিল হঠাৎ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এম.পি অধ্যাপক মজিবুর রহমানের আগমনকে ঘিরে। তার আগমনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উঠে আসে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতার আগমন ও রমযান মাসের ক্যালেন্ডার ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন পর এক প্রকার চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে জামাতের নেতা কর্মীদের মাঝে।

এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক ঈদের আগ থেকে এলাকা চুষে বেড়াচ্ছেন। এমনকি জেলা আ’লীড় সভাপতি সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী তার আগ থেকে এখন পর্যন্ত তানোর গোদাগাড়ীর আনাচে কানাচে ¦ীদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং কিছুটা হলেও রাজনীতি ধরণ বদলে দিয়েছেন সাংসদ ফারুক চৌধুরী। এতে করে উভয় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব তেমনী ভাবে জাতীয় সংসদ ভোটের আগাম হওয়া বইতে শুরু করেছে।

জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পর আগমন ঘটে কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা অধ্যাপক মজিবুর রহমানের। তিনি ঈদের পরদিন গোদাগাড়ীতে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করেন। যা ফেসবুকে পাওয়া যায়। তার পরদিন তিনি আসেন তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা এলাকায়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করেন। যা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলামের ফেসবুক আইডিতে পাওয়া যায়। একাধিক নেতা বলছেন প্রকাশ্যে জনতার সামনে আসার সুযোগ হলে অবশ্যই আগামী সংসদ নির্বাচন করবেন জামায়াতের এই নেতা। কারণ তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এনিয়ে জামায়াতের উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে তানোর-গোদাগাড়ীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার। এজন্যে অধ্যাপক মজিবুর রহমান এলাকায় এসেছেন এবং ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আপনাদের দলীয় প্রতীক নেই সে ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কিনা। জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রশ্নই উঠে না। সতন্ত্র প্রতীক নিয়ে তানোর-গোদাগাড়ীতে নির্বাচন করা হবে। তবে যেহেতু জামায়াত জোটে আছে সে ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।

এনিয়ে রাজশাহী সাংগঠনিক পশ্চিম জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ওবাইদুল্লাহ্ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মজিবুর রহমান রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে আশা করছি। কারণ তিনি বর্তমান সরকারের সময় একাধিকবার কারাবন্দী হয়েছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অভিজ্ঞতা অনেক। আমরাও আশা করছি জোট থেকে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে সবকিছু পরিষ্কার করা যাচ্ছে না কারণ নির্বাচনের সময় এখনো অনেক। যেহেতু জোটে আছে জামায়াত এজন্যে মনোনয়নের ব্যাপারে আরো অপেক্ষা করতে হবে। আমরা নির্বাচনের জন্যে সবসময় প্রস্তুত রয়েছি। কারণ অধ্যাপক মজিবুর রহমান আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকবার কারাবন্দী হয়েছেন। বিপরীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক কোন আন্দোলনে তেমন ভাবে ছিলেন না।

বিএনপির নেতারা জানায়, রোযার শেষ দিকে ইফতার থেকে শুরু করে ঈদের পরে বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ঈদের দুই দিন আগে কলমা বিএনপির আয়োজনে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। সেই ইফতারে যাননি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তানোর পৌর মেয়র মিজান। ইফতারে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক চাঁন্দুড়িয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মফিজ উদ্দীন। তানোর বিএনপিতে দ্বন্দ্বের শেষ নেই। একেক জন একেক গ্রুপিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন ক্রমেই দ্বন্দ্ব থেকে বের হতে পারছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, বিএনপির নতুন রূপে দ্বন্দ্বের মূল কারণ মেয়র মিজান। তিনি তানোরে একক আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া।

তার এমন কর্মকান্ডে যে রাজনীতিতে তাকে এনেছেন সেই এমরান আলী মোল্লাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও একাধিক নেতাকর্মীরা জানান। তবে যতই লবিং গ্রুপিং থাক আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন এমন ধারণা নেতাদের। এছাড়াও মাঠে থাকে ব্যাপক ভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন জেলা আ”লীগ সভাপতি সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি গোদাগাড়ী এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদগাহ ময়দান সংস্কারে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। অনেক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বর্তমানে কোন প্রার্থী মাঠে নেই।

চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং গ্রুপিং। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কলমা ইউপির চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় এলাকায় ব্যাপক শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন সাংসদ। সবাইকে বুঝতে হবে তানোর থেকে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় ফারুক চৌধুরী। তিনি তানোরের কৃতি সন্তান। এটা তানোরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। সেই গর্বটি আগামীতে যাতে ধরে রাখা যায় এজন্যে সাংসদের পক্ষে থাকতে তানোরবাসীকে আহ্বান জানান তিনি।