তানোরে গরুর খামার করে ছাত্র শাহাবুদ্দিনের সফলতা

তানোরে গরুর খামার করে ছাত্র শাহাবুদ্দিনের সফলতা

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়ালিখা করে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে আসেন বাড়ীতে। বসে থেকে বেকারত্বের অভিশাপ না লাগিয়ে শুরু করেন গরুর খামার। চমৎকার এক খামার করেছেনএকেবারে গ্রামীণ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র শাহাবুদ্দিন। বাড়ী তানোর উপজেলার একেবারে বরেন্দ্র এলাকার বাধাইড় ইউপি’র নির্জন গ্রাম গোয়ালপাড়ায়। তার চমকপ্রদ গরুর খামার দেখে ওই এলাকার বেকার যুবকরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায় মুন্ডুমালা জুমারপাড়া মোড় দিয়ে যেতে হবে গোয়ালপাড়া গ্রামে। বেশ কিছু দূর গিয়ে সন্ধান মেলে গ্রামটির। মূল রাস্তা পাঁকা হলেও গ্রামটিতে প্রবেশের রাস্তা হয়নি পাঁকা। রয়েছে কাঁচা মাটির রাস্তা। কয়েকজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতেই বলে ফেলল গ্রামের ভিতরের মসজিদের পার্শ্বেই রয়েছে খামার। খামারের সামনেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের চারপাশ প্রটেকশন ওয়াল দ্বারা বাধা। পুকুরটি শাহাবুদ্দীন নিজস্ব। পুকুরের উত্তরে রয়েছে বিশাল আকারে গরুর খামার। খামারের সামনে আদিকালের রয়েছে কুয়া। খামার দেখাদেখি করতেই খামার মালিক শাহাবুদ্দীন। একান্তে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল সাইয়েন্সের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বসে না থেকে নিজের স্বপ্ন থেকে ৬টি গরু দিয়ে শুরু করি খামার। ৬টি গরু কেনা হয়েছিল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে। চার মাস পর বিক্রি করে দাম আসে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। পুঁজি দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকায়। খামার বিনিয়োগ করেন আরো ৭ লক্ষ টাকা। গিয়ে দাঁড়ায় ১৩ লক্ষ টাকার মতো মূলধন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে খামারে ১৯টি গরু রয়েছে। মূলধন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ টাকার মতো। শুধু তাই নই খামার সংলগ্ন জায়গায় বায়ু গ্যাস প্লান করে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। যশোর জেলা থেকে এনেছেন খড় কাটা মেশিন। শাহাবুদ্দীন এ মেশিন আনতে খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো। সাত থেকে আট মাস ধরে খামার পরিচর্যা করেন আদিবাসী যুবক পলিন মাহতো। তিনি জানান খামারে কাজ করতে করতে গরুর উপর প্রচন্ড মায়া বসে গেছে। খামারের সামনে গরুকে গোসল করানোর জন্য রয়েছে পুকুরের খাস বাঁধা। সম্প্রতি গরুকে গোসল করাতে গিয়ে একটি গরুর শিং ভেঙ্গে যায়। গরু পেয়েছে কষ্ট কিন্তু পলিন মাহতো শোকে অর্ধাহারে দিন পালন করছে। খামারের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে খড় সহ গরুর খাবার রাখার ঘর। সে ঘরে আছে খড় কাটা মেশিন। কখনোই দেখা হয়েছিল না মেশিনটি। প্রথমবারের মতো এ প্রতিবেদককে খড় কেটে দেখান শাহাবুদ্দীন। তার খামার নিয়ে বাধাইড় ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান পরিশ্রম মানুষের সফলতার মূল চাবিকাঠি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বেকার বসে না থেকে গরুর খামার করে এলাকার যুব সমাজকে দেখিয়েছেন ইচ্ছে করলে উপায় হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শওকাত আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, খামারটির বিষয়ে অজানা। তবে শুনে চমৎকার লাগছে অবশ্যই কোন এক সময় খামার দেখতে যাওয়া হবে। শিক্ষিত ছেলে চাকুরীর খোঁজে না গিয়ে গড়ে তুলেছেন খামার না দেখে তো পারা যায় না।