তনু হত্যা: পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ঢাকায় তলব

তনু হত্যা: পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ঢাকায় তলব

অনলাইন ডেস্ক : ইতোমধ্যে তনু হত্যাকাণ্ডের ২০ মাস পার হয়ে গেছে। এতদিন পর তার পরিবারের ৫ সদস্যকে ঢাকার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় পরিবারের পাঁচ সদস্য তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হবেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী ছিলেন সোহাগী জাহান তনু। গত বছরের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর পাওয়ার হাউস এলাকায় কালভার্টের পাশের ঝোপ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। কারা, কী কারণে তনুকে খুন করেছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি।
সিআইডির তলবের পর তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার কুমিল্লা সিআইডি অফিস থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। আমি, আমার স্বামী, দুই ছেলে ও তনুর চাচাতো বোন লাইজুকে নিয়ে ঢাকায় সিআইডি অফিসে যেতে বলা হয়েছে। মেয়ে হত্যার বিচার পেতে যেখানে বলে আমরা সেখানেই যাব। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। তিনি বলেন, আমি শুরুতে যাদের নাম বলেছি, বারবার এক কথাই বলে আসছি। যাদের ধরতে বলেছি, তাদের ধরলেই সব কিছু খোলাসা হয়ে যাবে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, তনু হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি কাজ করে যাচ্ছে। তবে তনুর পরিবারের ঢাকায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত বছরের ২০ মার্চ রাতে লাশ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ ও ডিবি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটি তদন্ত করছে কুমিল্লা সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে প্রতিবেদন দেয়ায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় দেখা দেয়। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন তথ্যেও তারা নিশ্চিত হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা কিংবা ফলাফল কী এ নিয়ে কিছু জানা যায়নি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.