ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে র‌্যাফেল ড্র’র আড়ালে জুয়া!

ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে র‌্যাফেল ড্র’র আড়ালে জুয়া!

নীলফামারী প্রতিনিধি: ডোমার উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্রয়ের নামে লটারী দেয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের এক হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিজন থেকে ২০ টাকা মূল্যমানের দুটি করে লটারীর টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক। লটারীর বিষয়টিকে বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছে ম্যানেজিং কমিটি।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে আগামীকাল শনিবার বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে র‌্যাফেল ড্র-এর নামে লটারীর আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রতিজন শিক্ষার্থীকে দুটি করে লটারীর টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা টিকিট কিনছে না তাদেরকে নানাভাবে ধমক দিচ্ছে শ্রেণি শিক্ষকেরা। গত কয়েক দিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাসে গিয়ে কে লটারীর টিকিট কিনেছে কে কিনেনি তা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, অনেকের কাছে খুচরা না থাকার অজুহাতে ২টির জায়গায় ৪/৫টি পর্যন্ত টিকিট কিনতে বাধ্য করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণি শিক্ষকরা ক্লাসে গিয়ে প্রথমেই জানতে চান কে টিকিট কিনেছে আর কে কিনেনি। যারা টিকিট কিনতে রাজী নয় তাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।
লটারীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম জানান, কাউকে টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ছাত্রদের জন্যই ব্যয় করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রওশন রশীদ জানান, বার্ষিক ক্রীড়ার খরচ জোগাতে র‌্যাফেল ড্র দেয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান সুমন জানান, লটারী নয়, এটি র‌্যাফেল ড্র আর বিষয়টি বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা বেগম র‌্যাফেল ড্র বা লটারী যেটাই হোক, এটাকে জুয়া আখ্যায়িত করে জানান, ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এটা হচ্ছে তিনি জানেন না।