জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় মেয়র আমজাদের

জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় মেয়র আমজাদের

amjad
এম এ করিম, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে: সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার বলেছেন, পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি জনগণের সেবক হতে চান। ‘উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বা বিরোধী দল প্রয়োজন হয় না’ মন্তব্য করে পৌরপিতা বলেন, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে যে কোনো সমস্যা সমাধানসহ ভালো কাজ করা সম্ভব। সকল কাজে জনগণের সহযোগিতা চাই এবং নৈরাজ্যের কোনো স্থান নেই এ শহরে। নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভায় চতুর্থ বারের মতো নির্বাচিত মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার বিডি মেয়র ডট কম-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
আমজাদ হোসেন সরকার ১৯৬৯ সালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে আসেন। এরপর ছাত্রদল, ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী, ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সদস্য হিসেবে যোগ দেন। পরে জেলা শাখার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। দফায় দফায় রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলায় ২০ মাসেরও বেশি কারাগারে ছিলেন এ পৌরপিতা। আমজাদ হোসেন সরকার বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করেছি। নির্মিত হচ্ছে পৌরভবন। নোংরা শহর থেকে শিক্ষার শহরে পরিচিতি লাভ আর পৌরবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার নগরী গড়তে নির্মাণ করেছেন সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, গোলাহাট বালিকা বিদ্যালয়, মকবুল হোসেন বিএম কলেজ, সৈয়দপুর আসমতিয়া মাদরাসা। এছাড়া সৈয়দপুর মহিলা কলেজকে ডিগ্রি কলেজ এবং গোলাহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও সানফ্লাওয়ার স্কুলকে কলেজে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লা প্রতিটি এলাকা দিনে দুবার পরিষ্কার করা হচ্ছে। লোকজনের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রতিটি এলাকায় স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা হচ্ছে। সীমিত বরাদ্দে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় যেটুকু সম্ভব উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। আগামীতে এই শহরের উন্নয়ন সম্পর্কে আমজাদ হোসেন বলেন, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, বাসটার্মিনালের মেরামত ও সংস্কার, পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণ, আয় বাড়ানোর জন্য সাপ্তাহিক হাট, পৌরসভার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, নাইট কোচের জন্য একটি নির্ধারিত স্ট্যান্ড তৈরি, পৌরবাসীকে অনলাইনের আওতায় আনা, পৌর পরিষদের মাসিক সভা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত, জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন।
উন্নত ও কাক্সিক্ষত পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন মেয়র আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, শান্তির শহর সৈয়দপুরে নৈরাজ্যের কোন সুযোগ নেই। বাকিটা জীবন আমি মানুষের সেবা করে কাটাতে চাই।