‘কুয়াকাটা হবে পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহর’

‘কুয়াকাটা হবে পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহর’

শরিফুল হক শাহীন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে: কুয়াকাটা পৌরসভায় নবনির্বাচিত মেয়র আ. বারেক মোল্লা। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রথম মেয়র হিসেবে তিনি ২৫শে জানুয়ারি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের হাতে শপথ নেন। কুয়াকাটা পৌরসভাটি প্রায় ২১ দশমিক ৯৩ ডিগ্রি থেকে ২১ দশমিক ৯৭৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ২৫ ডিগ্রি থেকে ৯০ দশমিক ২৭৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ২০১০ সালে ৩৪নং লতাচপলী মৌজার ১১৪০ দশমিক ৫৫ একর জায়গা নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির নতুন এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। আলাপকালে কুয়াকাটা পৌরসভাকে ঘিরে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. বারেক মোল্লা জানিয়েছেন তার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার কথা। পৌরবাসীর প্রকৃত সেবক হিসেবে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে কুয়াকাটাকে পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের কথা ব্যক্ত করেছেন। জানিয়েছেন সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন ডিজিটাল পৌরশহর গড়ার কথা।
কুয়াকাটা পৌরসভা একটি গুরুপূর্ণ পৌরসভা। এখানে মোট ৬ হাজার ৮৪৫ জন ভোটার। চার হাজার ৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত মেয়র আ. বারেক মোল্লা ৩১শে জানুয়ারি পৌরসভার দায়িত্বভার বুঝে নেন। তিনি বলেন, নতুন পৌরসভা হিসেবে কুয়াকাটার সমস্যার শেষ নেই। বলতে গেলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এখানে উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই লাগেনি। অধিকাংশ রাস্তায় ইটপাথরের পরশ পায়নি। পর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বর্ষায় পানি জমে থাকে রাস্তায়। বাড়ির আঙিনায় জমে হাঁটু সমান পানি। বিদ্যুতের লাইন যায় নি অধিকাংশ মহল্লায়। জনবলের মধ্যে ২৫ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ অবস্থা দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা পৌর শহরের।
মেয়র বলেন, এখানে বর্ষার সময় বাড়ির আঙিনা পর্যন্ত পানি জমে যায়। অবস্থা এমন পর্যায় পৌঁছে যে, পৌরবাসীদের রান্না করার চুলাটিও ভিজা থাকায় তখন ওই এলাকার মানুষ রান্না করতে পারে না। এ কারণে প্রথমেই অগ্রাধিকার ভিক্তিতে পরিকল্পিতভাবে রাস্তার সঙ্গে ড্রেন তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া, খাজুরা, পশ্চিম কুয়াকাটা, নবীনপুর, কচ্ছপখালী, হোসেনপাড়া, ফাঁসিপাড়া, তুলাতলীসহ গোটা পৌর এলাকার অধিকাংশ রাস্তাই কাঁচা। এ পৌরসভার মাত্র দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এ পাকা সড়কের কাজের মান খারাপ হওয়ায় পিচ উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। পুরাতন রাস্তা মেরামত, নতুন রাস্তা তৈরি ও রাস্তা প্রশস্ত করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবো। এ ছাড়া পৌরশহরের মশা ও বেওয়ারিশ কুকুর নিধন, শিক্ষার অধিকার যাতে পৌরবাসীর দোড়গোড়ায় পৌঁছে তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার প্রসারতায় কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড না থাকায় কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের গাড়ি রাখা হয় যত্রতত্র। এর ফলে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের যেমন ভোগান্তি বাড়ে তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। বাসস্ট্যান্ড নির্মাণসহ পৌরশহরের প্রত্যেকটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে পৌরশহরকে ছিচকে চোর ও মাদকসেবীদের দখল থেকে মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহরে পরিণত করার ইচ্ছা পোষণ করেন। মেয়র বলেন, আমাদের সমাজে নারীদের অবহেলা কিংবা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নারীদের সম-অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সর্বক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সকল কাজে নারীদের সম্পৃক্ত করে কুয়াকাটা পৌর শহরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। কুয়াকাটা সাগর লাগোয়া হওয়ায় এখানের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাগরে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলেরা সমৃদ্ধ করেছে দেশের অর্থনীতিকে। মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করছে। জাতীয় মাছ ইলিশ আহরণের অন্যতম জোন কুয়াকাটা। এখানের জেলেরা যাতে ঝাটকা নিধন না করে, ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে রেণু ধ্বংস না করে এর জন্য কাজ করবো। এ সময় জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো। যাতে জেলেদের অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে না হয়।
এছাড়া সব দল ও মতের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবো। আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌরবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। পৌরবাসীর বিপদে আপদে পাশে থাকতে চাই। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করেছে। সেজন্য আমি জনগণের সেবক হিসেবে তাদের সব অভাব-অভিযোগ আন্তরিকতার সঙ্গে নিরসনের চেষ্টা করবো। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ কারণে পৌরবাসীর সব ধরনের সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে কলাপাড়া পৌরসভাকে একটি ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছি। এ জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।