কুষ্টিয়া পৌরসভায় ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্প বিষয়ক কর্মশালা

কুষ্টিয়া পৌরসভায় ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্প বিষয়ক কর্মশালা

আরিফ ইসলাম: কুষ্টিয়া পৌরসভায় ইন্টিগ্রেটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ইনকর্পোরেটিং ক্লাইমেট চেঞ্জ রেসিলিয়েন্স ইন সিলেক্টেড সিটিইআইপি এন্ড ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্প বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার মজিবর রহমান মিলনায়তনে ইউজিআইআইপি-৩, এলজিইডি এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে ২দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম আকন্দ, বিশেষ অতিথি ছিলেন এডিবি’র আরবান ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট আলেকজানদ্রা ভলগ ও সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মোঃ শহিদুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলরবৃন্দ, পিপিটিএ কন্সালটেন্টস টিম লিডার রজার জ্যাকসন ও তার টিম এবং জিআইসিডি কন্সালটেন্টস টিম, কুষ্টিয়া এলজিইডি অফিসের প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, টিএলসিসি সদস্য, প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি সহ কুষ্টিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম আকন্দ প্রথমে নবনির্বাচিত পৌর পরিষদকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা এবং কুষ্টিয়া আঞ্চলিকভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। কিছুদিন আগে পৌরসভাটি ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১ ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে এবং এর এলাকা প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের মেয়র সারাবিশ্বে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মেয়র দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন সেই কারণেই দেশের স্বনামধন্য ২-৩ টি পৌরসভার মধ্যে কুষ্টিয়া একটি। কুষ্টিয়া শহর বড়। সেই কারণে এই প্রকল্পটির গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়াতে হবে যাতে এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য অবকাঠামোগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ পৌরসভা নিজেই করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের মেয়রের দাতা সংস্থার কাছে সুনাম আছে, সেই সুনাম ধরে রাখতে হবে। টেকসই শহর গড়ার জন্য আপনাদের সকলকে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, প্রথমে আমি ঢাকা থেকে আগত ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম আকন্দ ও তার টিম, এডিবির আরবান ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট আলেকজানদ্রা ভ’ল ও সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মোঃ শহিদুল আলম, পিপিটিএ কন্সালটেন্টস টিম লিডার রজার জ্যাকসন ও তার টিম এবং জিআইসিডি কন্সালটেন্টস টিমকে কুষ্টিয়া পৌরসভায় স্বাগত জানাচ্ছি। একইসাথে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কুষ্টিয়া পৌরসভায় আসার জন্য। মেয়র বলেন, বর্তমান বিশে^ সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। বাংলাদেশে এই শব্দটির গুরুত্ব পৃথিবীর অন্যান্য সকল দেশের থেকে বেশি, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ এর ১৯৯০-২০০৯ সাল পর্যন্ত চালানো সমীক্ষা শেষে ২০১০ সালে প্রকাশিত গেøাবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমে অবস্থান করছে।
মেয়র আরও বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা। ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই পৌরসভাটির বর্তমান আয়তন ৪২.৭৯ বর্গকি.মি. এবং লোকসংখ্যা প্রায় ৩,৭৫,১৪৯ জন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি উন্নত পৌরসভার একটি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কুষ্টিয়া পৌরসভা তথা পৌরবাসীর উপর এসে পড়েছে। যার প্রকৃত উদাহরণ হলো বৃষ্টিপাত হ্রাস, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, বন্যা, ঝড়, নদী ভাঙন সহ সামগ্রিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তনের আরও একটি ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব যেটি কুষ্টিয়া শহরের উপর এসে পড়েছে তা হলো ভ‚-গর্ভস্ত পানির স্তর অবনমন; এর ফলে টিউবওয়েলের মাধ্যমেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না এবং নদীতেও পানি থাকছে না। ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এ সকল কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত করছে শহরের অর্থনীতিকে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এসব প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য আমাদেরকে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাবিনা ইসলাম। প্রথমে কোরআন তেলোওয়াত করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার পেশ ঈমাম আবুল কামাল আজাদ ও গীতা পাঠ করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক সুবীর কুমার। পরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ২ দিনব্যাপী কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে অতিথিবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পৌর পরিষদ। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ কুষ্টিয়া পৌরসভার নারী কর্নার, কল সেন্টার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন।