কলাপাড়াকে মডেল পৌরসভা করতে চান বিপুল

কলাপাড়াকে মডেল পৌরসভা করতে চান বিপুল

শরিফুল হক শাহীন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে: বিপুল চন্দ্র হাওলাদার। একজন সংবাদকর্মী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি । প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আর কলাপাড়া পৌরসভার চতুর্থ মেয়র তিনি। নির্বাচিত হয়েই স্বপ্নের কথা জানালেন এই জননেতা। বললেন, কিভাবে দেখতে চান কলাপাড়া পৌরসভাকে।
বিডি মেয়র ডট কম-এর সঙ্গে আলাপকালে বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান তার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার কথা। পৌরবাসীর প্রকৃত সেবক হিসেবে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে কলাপাড়াকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের কথা ব্যক্ত করেছেন এই পৌরপিতা। দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন আধুনিক পৌরশহর গড়ার কথা।
কলাপাড়া উপজেলাটি প্রায় ২১ দশমিক ৪৮ ডিগ্রি থেকে ২২ দশমিক ০৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ০৫ ডিগ্রি থেকে ৯০ দশমিক ২৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। পৌরসভার আয়তন ৩ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার। ১৯৯৭ সালের ১লা মার্চ ১১ হাজার ২৬ ভোটার নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় কলাপাড়া। ২০১৫ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। এই উপজেলায় রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা, দেশের তৃতীয় সামুদ্রিক বন্দর পায়রা, নেভাল বেইজ ও ১৩২০ মেগাওয়ার্ড কয়লা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
সাত হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার ২৩শে ফেব্রুয়ারি পৌরসভার দায়িত্বভার বুঝে নেন। তিনি বলেন, পৌরসভার ১, ৩ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। এখানে বর্ষার সময় বাড়ির আঙ্গিনা পর্যন্ত পানি জমে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, পৌরবাসীর রান্না করার চুলাটিও ভিজা থাকায় তখন ওই এলাকার মানুষ রান্না করতে পারে না। এ কারণে প্রথমেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই তিন ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে রাস্তার সঙ্গে ড্রেন তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পুরাতন রাস্তা মেরামত, নতুন রাস্তা তৈরি ও রাস্তা প্রশস্ত করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবো। এ ছাড়া পৌরশহরের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কারের মাধ্যমে পানি চলাচল নিয়মিত রাখা, পৌরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ড্রেনের সঙ্গে যারা টয়লেটের পাইপ সংযুক্ত করেছে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মশা ও বেওয়ারিশ কুকুর নিধন, শিক্ষার অধিকার যাতে পৌরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার প্রসারতায় কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। কলাপাড়া পৌর শহরে এখনও অনেক মহল্লা আছে যেখানের মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেক সড়কে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। সেসব মহল্লায় বিদ্যুতের খুঁটি গেড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পৌরশহরের প্রত্যেকটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে পৌরশহরকে ছিঁচকে চোর ও মাদকসেবীদের দখল থেকে মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহরে পরিণত করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
মেয়র বলেন, পৌরশহরের অভ্যন্তরে প্রবাহিত খালগুলো শহরের প্রাণ। এগুলো ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশন করে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে। অনেক খালই ভরাট করে অবৈধ দখলদাররা দখল করে নিয়েছে। পৌরশহরের খাল দখলের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। বরং এই খালগুলো পুনঃখনন করে পানি সরবরাহ সচল রাখার ব্যবস্থা করার ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো। পৌরসভার নারী উন্নয়নের ব্যাপারে বলেন, আমাদের সমাজে নারীদের অবহেলা কিংবা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নারীদের সমঅধিকার বাস্তবায়নের জন্য সর্বক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এছাড়া, সকল দল ও মতের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবো। আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌরবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। পৌরবাসীর বিপদে আপদে পাশে থাকতে চাই। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করেছে। সেজন্য আমি জনগণের সেবক হিসেবে তাদের সকল অভাব অভিযোগ আন্তরিকতার সঙ্গে নিরসনের চেষ্টা করবো। কলাপাড়া পৌরসভার ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ কারণে পৌরবাসীর সকল ধরনের সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে কলাপাড়া পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছি। এ জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।