এবার ভয়ংকর নেইমার, অপ্রতিরোধ্য পিএসজি

স্পোর্টস ডেস্ক : পিএসজিতে যোগ দিয়ে কিছুদিন নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না নেইমার। মনে হচ্ছিলো কোথায় যেন কিছু একটা হয়েছে। ছন্দ-তালে গড়মিল। মুডটা ঠিক ছিলো না এই তারকার। তবে প্যারিসে পার্ক দেস প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে সেল্টিককে সামনে পেয়েই যেন নিজের ছন্দ খুঁজে পেলেন ব্রাজিলীয় তারকা। আর ‘মুডে’ থাকা নেইমারের সঙ্গে এডিনসন কাভানি ও কিলিয়েন এমবাপ্পে যদি সহযোদ্ধা হন, তবে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, পিএসজির কাছে ৭-১ গোলে হেরে সেটিই বুঝেছে সেল্টিক। তবে ম্যাচে শুরু করেছিল সেল্টিকই। মুসা ডেম্বেলের গোলে প্রথম মিনিটেই এগিয়ে গিয়ে তারা। কিন্তু এতে হিতে-বিপরীত হলো। ধাক্কা খেয়ে পিএসজি এমনভাবে জ্বলে উঠলো, সেটি সামলাতে পারলো না তারা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই দুটি গোল করলেন নেইমার, সঙ্গে কাভানি আর এমবাপ্পের দুটি। ফল দাঁড়াল ৪-১-এ। ৯ মিনিটে ভয়ংকর নেইমার গোলের খাতা খুলেন। দ্বিতীয় গোলটি করেন খেলার ২২ মিনিটে। এরপর ২৮ আর ৩৫ মিনিটে কাভানি ও এমবাপ্প। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি গোল এলো মার্কো ভেরাত্তি, কাভানি ও দানি আলভেসের কাছ থেকে। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির সবচেয়ে বড় জয়।
পিএসজিতে যোগ দিয়ে স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছিলেন নেইমার। শেষ কয়েক সপ্তাহ মোটেও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। জড়িয়ে পড়েন নানা বিতর্কে। কিন্তু ম্যাচের ৯ মিনিটের আদ্রিয়েন র‌্যাবিওটের পাস থেকে বেশ দুরূহ কোণ থেকে গোল করে জানিয়ে দেন, ‘তিনি আছেন এবং ফিরেছেন আপন মূর্তিতে’। ২২ মিনিটে মার্কো ভেরাত্তির সঙ্গে পাস খেলে সেল্টিকের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনকে যে নিচু শটে পরাস্ত করেন, সেটিও নজরকাড়া। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি নেইমারের ষষ্ঠ গোল। পাঁচ ম্যাচ খেলে ছয় গোল-মন্দ বলার তো উপায় নেই।
পিএসজির তৃতীয় গোলেও অবদান নেইমারের। দানি আলভেসের কাছ থেকে পাওয়া একটি বল কাঁধ ব্যবহার করে এগিয়ে দেন কাভানিকে। সেখান থেকে গোল করতে খুব অসুবিধা হয়নি উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের। চতুর্থ গোলটি এমবাপ্পের হলেও সেখানেও আছেন নেইমারের অবদান। যদিও এ গোলটিতে সেল্টিকের ডিফেন্ডারদের অবদান অনেক। নেইমারের ফ্রি কিক ফেরাতে ব্যর্থ হলে এমবাপ্পে গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধ ভেরাত্তি আর কাভানির গোল স্কোরলাইনকে সমৃদ্ধ করলেও ম্যাচের সেরা মুহূর্তটি পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন দানি আলভেস। ২২ গজ দূর থেকে দুর্র্ধর্ষ এক শটে পিএসজিকে সাত নম্বর গোলটি এনে দেন তিনি। পিএসজি সমর্থকদের জন্য গোলটির স্বাদ ছিল অনন্য।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.