উলিপুরে পছন্দের ব্যক্তিকে দেয়া হলো কোটি টাকার হাট

উলিপুরে পছন্দের ব্যক্তিকে দেয়া হলো কোটি টাকার হাট

মোঃ রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে : টেন্ডারে ঘাপলাবাজি, পদে পদে অনিয়মের মাধ্যমে উলিপুর পৌরসভা কোটি টাকা মূল্যের উলিপুর হাটের ইজারা পছন্দের ব্যক্তিকে দেয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জনশ্রুতি রয়েছে, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ দরপত্র বৈধ করা হয়। অভিযোগ করেও বিচার না পেয়ে রোববার বিকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে ব্যবসায়ী মালেক তথ্য ফাঁস করে দেন। এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

হাটের ইজারায় অংশগ্রহণকারি আব্দুল মালেক জানান, উলিপুর পৌরসভা গত ৯ ফেব্রুয়ারি উলিপুর হাটের দরপত্র আহবান করে। সিডিউল বিক্রি হলেও দরপত্র বিজ্ঞপ্তির ক্যালেন্ডারনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারী প্রথম দফা দরপত্র উদ্দেশ্যমূলক বাতিল দেখান কর্তৃপক্ষ। ক্যালেন্ডারের দ্বিতীয় দফা গত ১৬ মার্চ দুপুর ২ টায় ছিল দরপত্র ফেলার শেষ দিন। ইজারা বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর শর্তে উল্লেখ আছে, ‘দরপত্রে দাখিলকৃত দর অংকে ও কথায় লিখতে হবে, ঘষামাজা/অস্পষ্ট/কাটাকাটি দরপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না’। কিন্তু দরপত্র কমিটি ৮ নম্বর শর্ত খেলাপ করে তাদের পছন্দের ব্যক্তি আব্দুর রহমান নামের দরপত্রটি সিএস সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। সর্বোচ্চ দরপত্র দাতা হিসেবে ওই ব্যবসায়ি উদ্ধৃত দর কথায় ও অংকে গরমিল থাকা সত্বেও ইজারাদার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

ওই দরপত্রে টাকার অংকে ১০০০৭০০০.০০ লেখা ছিল। কিন্তু কথায় টাকার অংক লেখা হয় ‘এক কোটি সাত লাখ টাকা’। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘এই টেন্ডার জালিয়াতির সাথে দরপত্র কমিটি সরাসরি জড়িত। উদ্ধৃত দরের সাথে ৩০ শতাংশ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দেয়ার কথা থাকলেও আব্দুর রহমানের ব্যাংক ড্রাফটি করা হয়েছে অনেক বেশি টাকার। যাতে পরবর্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতার দরটি গোপনে জেনে তার চেয়ে বেশি দর উল্লেখ করা যায়। এক্ষেত্রে তার ফেলা দরপত্রটির দর জেনে তার চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে গিয়ে তাড়াহুরো করে অংকে ও কথায় টাকার অংক লিখতে গরমিল করে ফেলেন’।

উল্লেখ্য, আব্দুল মালেকের উদ্ধৃত দর ছিল ১ কোটি ১ হাজার টাকা। তার চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে যেয়ে এই গরমিল করে ফেলেন আব্দুর রহমান।

এদিকে, দরপত্র খোলার সময় নোটিশে ও শর্তে বিকাল ৩ টা নির্ধারন করা থাকলেও তা খোলা হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। এর আগে দুপুর ২ টায় দরপত্র গ্রহণ শেষে রহস্যজনকভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ সকলকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেন।

হাট ইজারায় অংশ নেয়া ব্যাক্তিরা অভিযোগ করেন, এসময় দরপত্র কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম প্রকৃত সর্বোচ্চ দরদাতা আব্দুল মালেকের ফেলা দরপত্রটির সিলগালা খুলে উদ্ধৃত দর জেনে নেন। এরপর কুড়িগাম অফিসে ফেলা আব্দুর রহমান নামের উদ্ধৃত দরের ঘর ফাঁকা রাখা দরপত্র সিডিউলটি বিকেলে নিয়ে আসার সময় পথে দূর্গাপুর নামক এক জায়গায় ফাঁকা রাখা দরের ঘরে আব্দুল মালেকের চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় ঐ গরমিল করে ফেলেন।

এদিকে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক বিলম্বে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে দরপত্র খুলে দর উল্লেখ করার সময় এই গরমিল ধরা পড়ে। দরপত্রে অংশগ্রহণকারি উপস্থিত ব্যক্তিরা দরপত্র খোলার সময় ত্রুটিপূর্ণ আব্দুর রহমানের দরপত্রটি ইনফরমাল বা বাতিল বলে উল্লেখ করে তালিকাভূক্ত করতে বলেন। কিন্তু দরপত্র কমিটির সভাপতি ও পৌরসভার প্রকৌশলী মাহাবুবুল আলম দরপত্রের কোনো শর্তাবলী ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আব্দুর রহমানকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন’।

এ ব্যাপারে দরপত্র কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘টাকার অংক কথায় ও অংকে গরমিল হলেও কথায় লেখাটিতে যেহেতু টাকার পরিমান বেশি সেটাকেই সঠিক বলে ধরে নেয়া হবে। এটা ছোটখাট অনিয়ম। যেহেতু টাকার পরিমাণ বেশি এতে পৌরসভার রাজস্ব বেশি হবে।

পৌর মেয়র তারিক আবু আলা বলেন, অনিয়ম হলেও যেহেতু কথায় টাকার পরিমাণ বেশি আছে তাই আমরা সেটাই সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, উলিপুর হাটের ইজারার জন্য মোট তিনজন ব্যবসায়ি অংশ নেন। এরমধ্যে উলিপুর পৌরসভা কার্যালয়ে ২ টি দরপত্র দাখিল হলেও আব্দুর রহমান নামের দরপত্রটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা পড়ে।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.