উন্নয়নের মূল অন্তরায় রেলভূমি ও অনাদায়ী কর: পার্বতীপুর মেয়র

উন্নয়নের মূল অন্তরায় রেলভূমি ও অনাদায়ী কর: পার্বতীপুর মেয়র

মনজুরুল আলম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) থেকে : দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব এজেডএম মেনহাজুল হক বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার শুরু থেকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত পৌরসভা গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। মাদক ও সন্ত্রাসের সাথে কোন আপোষ নেই। পাশাপাশি স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি।
১৯৭২ সালে জন্ম হয় ‘গ’ শ্রেণীর পার্বতীপুর পৌরসভা। পৌরসভা গঠনের আগে এর পরিচিতি ছিল শহর পরিষদ নামে। একে অবাঙালি অধ্যূষিত এলাকাও বলা যায়। ১৯৭১ সালের আগে বাঙালির বসবাস ছিল সীমিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এই শহরকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে। শহরে অবস্থিত সকল ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা- সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ৯ মাস যুদ্ধের পর যখন বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে তার কিছুদিন পরেই পার্বতীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয় ‘গ’ শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হয় এবং ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। ইতিপূর্বে পৌরসভার এলাকাও সম্প্রসারিত হয়েছে।
মেয়র মেনহাজুল হক বলেন, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৩ দশমিক ৪৪ বর্গকিঃমিঃ আয়তনের এ পৌরসভার লোকসংখ্য প্রায় ৬৩ হাজার। পৌরসভার উন্নয়নের মূল অন্তরায় হচ্ছে রেলভূমি ও অনাদায়ী পৌরকর। অনাদায়ী পৌরকরের পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তন্মধ্যে রেলওয়ের কাছে অনাদায়ী পৌরকর দুই কোটি টাকার বেশি। শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ মিনার রোড, কাপড় মার্কেট, মনিহারী পট্টি সহ বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় ইমারত নির্মাণ করতে পারছে না। ফলে একদিকে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে পৌরসভা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পৌরসভার মধ্যে বিশাল এলাকা জুড়ে আছে রেলওয়ে স্টেশন, বাবুপাড়া, সাহেবপাড়া, নিউকলোনী, হলদীবাড়ী, পাওয়ার হাউজ কলোনী। এসব মহল্লার বাসিন্দারা পৌর সুবিধা ভোগ করলেও পৌর কর দিতে অনীহা জানায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলওয়ে জায়গাগুলো বর্তমান বসবাসকারীদের কাছে এককালীন বিক্রি বা লিজ দিলে সরকারও লাভবান হবে। সে সাথে এলাকার উন্নয়নও তরান্বিত হবে। পৌরসভার নিজস্ব কোন ভবন নেই। পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবনে (শোয়েব বিল্ডিং) পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাসটার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় পৌর ভবন র্নিমানের কাজ শুরু হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। একটি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। তবে পৌরবাসীর জন্য একটি মানসম্মত বিনোদন পার্ক নির্মাণ একান্ত জরুরী। ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় শতভাগ স্যানিটেশন সম্পন্ন হয়েছে।