উন্নয়নশীলের কৃতিত্ব জনগণকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নশীলের কৃতিত্ব জনগণকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনকে জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ, এ যোগ্যতা অর্জনের পেছনে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তাই বাংলাদেশের এই অর্জন ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে শ্রেষ্ঠ…শ্রেষ্ঠ দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মর্যাদা পাবে। সেটাই তার কামনা। জাতিসংঘের এ স্বীকৃতি উদযাপনে গতকাল শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ঢোলের বাদ্যে সূচনা হয় উৎসবের। সাতদিনের এই উৎসবের উদ্যাপন চলছে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ সেøাগান নিয়ে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফেকিতামোয়েলোয়া কাতোয়া। এ ছাড়া ইউএনডিপির প্রশাসক আখিম স্টেইনারের বার্তা পড়ে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের সচিব কাজী শহিদুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি উদযাপনের অংশ হিসেবে বর্ণিল শোভাযাত্রা করেন সরকারি চাকরিজীবীরা। রাজধানীর ৯টি স্থান থেকে নির্ধারিত পথ ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছেন। দুপুরে আড়াইটা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রায় সবাই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিসূচকের শর্তপূরণ করে প্রায় ৪৩ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়। উদ্বোধনী ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন আমরা যারা সকলে একযোগে কাজ করেছি, যারা উন্নয়নে অবদান রেখেছে; সকলের অর্জন, বাংলাদেশের জনগণের অর্জন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সকল জনগণই হচ্ছে মূল শক্তি। এই জনগণই পারে সব রকম অর্জন করতে। এই অর্জন যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়, এই অর্জনের পথ ধরে বাংলাদেশ যেন আরও এগিয়ে যেতে পারে- সেটাই তার চাওয়া। স্বল্পোন্নত বা গরিব বলে কেউ আর বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতদিন অনেকেই আমাদের গরিব বলে উপহাস করেছে। একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে কটাক্ষ করেছে। কিন্তু আজকে আমরা তাদের কাতারে উঠে এসেছি। এ অর্জন আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং আমাদের অবস্থান শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এই যাত্রাপথ যেন থেমে না যায়। আমরা তো যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? অন্যের কাছে কেন হাত পেতে চলব? আমরা যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, সেটা তো আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। এখন ২০২১ সাল নাগাদ আমাদের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। আর দেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্য মুক্তভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না…আমার ঠিক এটাই মনে হয়’ আজকে যে বাংলাদেশের মানুষের অর্জন…তিনি কি বেহেশত থেকে দেখতে পারেন? তিনি কি জানতে পারেন? বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন শেখ হাসিনা। মাঝে কিছু সময় চুপ করে তাকিয়ে থাকেন উপরের দিকে। নিজেকে সামলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে আমার ছোট বোন রেহানার সঙ্গে কথা বলছিলাম। আব্বা যে চেয়েছিলেন, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে…আজকে তো সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। আমরা একটা দুয়ার পেরিয়ে এগিয়ে গেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তা হলে বাংলাদেশ অর্জনের এই দুয়ারে পৌঁছাতে পারত দশ বছরের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক সময় লেগে গেল। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ১৯৮১ সালে দেশের ফেরার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, একটা বৈরী পরিবেশে তিনি দেশে এসেছিলেন। সেখান থেকে জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আজকে তিনি সেখান থেকে বাংলাদেশটাকে একটা ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গিয়েছিলেন। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করতে পেরেছি। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করায় ‘বাবার আত্মা শান্তি পাবে’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা। কতো মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয় তাদের আত্মা শান্তি পাবে। তিনি বলেন, এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই যাত্রাপথ যেন থেমে না যায়.. তিনি শুধু এটুকুই আবেদন করেন দেশবাসির কাছে, সকলের কাছে যে, আমরা গর্বিত জাতি হিসাবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে, বিজয় অর্জন করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? কেন আমরা অন্যের কাছে হাত পেতে চলব? কেনো আমরা পারব না নিজের পায়ে দাঁড়াতে? আমরা যে পারি সেটা তো আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতটুকু অর্জন আমি মনে করি বাংলার জনগণের। এই জনগণের কাছ থেকে যদি সাড়া না পেতাম, তাদের সহযোগিতা না পেতাম, তারা যদি ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত না করত তাহলে তো আমি ক্ষমতায়ও আসতে পারতাম না। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর আগেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে ৪১ সালের মধ্যে একটা উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলব। তখন তো আর বেঁচে থাকব না, আজকের যারা প্রজন্ম নিশ্চয় তারা এগিয়ে নিয়ে যাবে। সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার পর শেখ হাসিনার হাতে জাতিসংঘের দেওয়া উন্নয়নশীল দেশের সুপারিশপত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাক টিকিট ও উদ্বোধনী খাম এবং ৭০ টাকা মূল্যের স্মারকনোট উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফটো অ্যালবাম তুলে দেওয়া হয়। এই অর্জনে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও, ইউএস এইডের প্রশাসক মার্কগ্রিন এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকার ভিডিও বার্তা দেখানো হয় অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জেলে, খামারি, ছাত্র-ছাত্রী, দিনমজুর, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মন্ত্রিসভার পক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ১৪ দলের পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সভাপতি মÐলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, পেশাজীবী, নারী সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধি, শিশু প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি, শ্রমজীবী প্রতিনিধি এবং মেধাবী তরুণ সমাজের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেওয়া হয়। দেশের ক্রীড়াবিদদের পক্ষে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে শেখ হাসিনা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি উদযাপনের অংশ হিসেবে বর্ণিল শোভাযাত্রা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। ৫৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় দেখা গেছে সুসজ্জিত বাদকদল, ঘোড়ার গাড়ি। শোভাযাত্রায় বিশাল ব্যানার নিয়ে গায়ে বর্ণিল টি-শার্ট, মাথায় ক্যাপ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল ফেস্টুন। টি-শার্ট, ক্যাপ, ব্যানারে সেøাগান ছিল- ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ।’ শোভাযাত্রাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছেন। বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হয়। শোভাযাত্রার ফেস্টুনে ছিল সরকারের উন্নয়নের নানান সেøাগান- ‘সকল সূচকের উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ’, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অর্জনের পথে বাংলাদেশ’, ‘ডিজিটাল যুগ, জনগণের সুখ’, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ’, ‘হাতে রেখে হাত, উন্নয়নের ডাক’, ‘স্বপ্নপূরণের উৎসবে আজ দেশ’, ‘বাংলাদেশ আজ দুর্বার, রুখবে তাকে সাধ্য কার’ ইত্যাদি। কোনো কোনো দপ্তরের শোভাযাত্রায় মাইক ও স্পিকারে বেজেছে গান। শোভাযাত্রা থেকে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘নৌকা‘ সেøাগানও শোনা যায়। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় অনেক মিছিলে নৌকাও ছিল। শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমাবেত হওয়ার ৯টি স্পট ও শোভাযাত্রার রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর দেখা গেছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে তল্লাশিসহকারে একজন একজন করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করানো হয়। স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় লেজার শো ফায়ারওয়ার্ক, আতশবাজিসহ ২-৩ ঘণ্টার একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। বাংলা একাডেমি ও সংলগ্ন এলাকা, শিল্পকলা একাডেমি ও মৎস্যভবন সংলগ্ন এলাকা, শিশু একাডমি ও দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা, নগর ভবন, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ এবং শিল্পভবন চত্বর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে আসছেন। এসব এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কোন পয়েন্টে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হয়ে কোন রুট দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছিল ছুটির আমেজ। অফিসে এসে শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। অনেককে শোভাযাত্রার গেঞ্জি গায়ে সচিবালয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অফিসে আসেননি বলেও গেছে। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত স্পটের দিকে পায়ে হেঁটে যেতে থাকেন।
র‌্যালির গতিপথ : বাংলা একাডেমি ও সংলগ্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেতু বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সমাবেত হন। তারা বাংলা একাডেমি, দোয়েল চত্বর, আব্দুল গণি রোড, জিপিও হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেট দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। শিল্পকলা একাডেমি ও মৎস্যভবন সংলগ্ন এলাকায় সমাবেত হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা র‌্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি, মৎস্যভবন, কদম ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব, পল্টন, বাইতুল মোকাররম, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেট (মশাল গেট) দিয়ে প্রবেশ করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিশু একাডেমি ও দোয়েল চত্ব¡র সংলগ্ন এলাকায় সমাবেত হন। তারা শিশু একাডেমি, আব্দুল গণি রোড, জিপিও হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লোকজন জড়ো হন। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মৎস্যভবন, কদম ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব, পল্টন হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেট (মশাল গেট) দিয়ে প্রবেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম মাঠ ও সংলগ্ন এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাগুলোর কর্মীরা সমাবেত হন। তারা দোয়েল চত্বর, আব্দুল গণি রোড, জিপিও হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেট দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রবেশ করেন। নগরভবন এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্থান মোড়, রাজউক মোড় হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পূর্ব গেট দিয়ে প্রেবেশ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চত্ব¡র এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সমাবেত হয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পূর্ব গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৎস্যভবন, কদম ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব, পল্টন, বাইতুল মোকাররম হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেট (মশাল গেট) দিয়ে প্রবেশ করেন। শিল্পভবন চত্বর এলাকায় সমাবেত হয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পূর্ব গেট দিয়ে প্রবেশ করেন।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.