রাজশাহী সিটি করপোরেশনে যাননি মেয়র বুলবুল

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে যাননি মেয়র বুলবুল

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে: ঘোষণা দিলেও নগর ভবনে যাননি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।আদালত নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব ঘোষণা দিলেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে অার যাননি মেয়র বুলবুল। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলায় দায়িত্ব নেয়ার তিন ঘন্টা পর আবারও বরখাস্ত হলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত রোববার বেলা তিনটার দিকে বুলবুল সিটি করপোরেশনে তার কক্ষে বসেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ফ্যাক্সে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আসে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের দীর্ঘ ২৩ মাস পর আদালতের রায়ে রাজশাহী সিটি মেয়রের দায়িত্ব নেন বুলবুল। সকাল ১০টার দিকে দায়িত্ব নিতে গিয়ে দেখেন মেয়রের দপ্তরে তালা ঝুলছে। এর আগে সকালে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সকাল থেকে বিকেল অবধি দিনভর নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনে অবস্থান করেন। এসময় বুলবুলের সমর্থকরা ভাঙচুর চালান। এদিকে গতকাল বিকেল ৩টা পাঁচ মিনিটের দিকে ফ্যাক্সযোগে আদেশের কপিটি রাসিকে আসে। এর আগে ৩টা দুই মিনিটের দিকে বুলবুল তার অফিস কক্ষে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। আদেশের খবর শুনে ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তিনি বেরিয়ে যান।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, যে কারণ দেখিয়ে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে, সে কারণে আগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতে তিনি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ তিনি আমলে নিচ্ছেন না এবং আজ সোমবারও তিনি অফিস করবেন। গত ২২ মাস পর নিজের চেয়ারে বসে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেই ওয়ার্ডার বা আদেশ দিয়েছেন-তাতে আগামী নির্বাচনের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে আর বরখাস্ত করা যাবে না। আদালতের নির্দেশের পরে সরকারের গণতন্ত্র পরিপন্থি যেই কর্মকাণ্ড ছিল, সেগুলো আর ঘটতে পারে না। আমি স্থানীয় সরকারের এই বিভাগকে (রাসিককে) শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। কিন্তু বর্তমান যে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে-তা দেশের জন্য অশনি সংকেত। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন,আইনের মধ্যে দিয়েই আমার বরখাস্তের আদেশ সর্বোচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই আমার বিরুদ্ধে রাজশাহী শহরে যদি রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে ৫০টিও মামলা হয় তার জন্য আমাকে বরখাস্ত করা যাবে না। কিন্তু সরকার আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে আমাকে আবারো বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন। তবে বরখাস্তের আদেশকৃত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় দফার ফ্যাক্স সম্পর্কে মেয়র বলেন,সুপ্রিম কোর্টের আদেশবলে আমি এখন থেকে মেয়র। আদালত খেকে পরবর্তি কোনো নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমি নিয়মিত অফিস ও দায়িত্ব পালন করবো।’ যেহেতু আমার কাছে কোনো ফ্যাক্স আসেনি। এটা আদালতের কোনো আদেশ নয়। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক ফ্যাক্স। এর আইনগত বৈধতা নেই। কাজেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আমাকে স্থানীয়ভাবে কেউ বাধা দিলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিব। বুলবুল অভিযোগ করে আরো বলেন, আজকে সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানকে (রাসিককে) চোরের আখড়া তৈরী করে ফেলা হয়েছে। গত দুই বছর এই সকল কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। যেই কাউন্সিলর দায়িত্বে ছিলেন আমি বসেই দেখতে পেয়েছি তার নামে দুর্নীতির অভিযোগ। তাহলে সহজেই বোঝা যায় গত দুই বছরে সিটি করপোরেশনের সেবা থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। সাধারণ জনগণরে সেবা প্রাপ্তির জায়গাটি অবমূল্যায়িত হয়েছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত যারা আছেন, আগামী দিনে জনগণের কাছে তাদের কৈফিয়ত দিতে হবে। জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের আদেশের পর নগর ভবনে আর যাবেন না বলে জানিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবারও আইনি লড়াইয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয় মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। এরপরই গতকাল রোববার দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে যান বুলবুল।#